শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে ১০লাখ টাকার হেরোইন-সহ ৩জন মাদক কারবারী গ্রেফতার নগরীর তালাইমারীতে গাঁজা কারকারী মল্লিক গ্রেফতার রাজশাহীতে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু রিভার সিটি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রুয়েটকে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করতে হলে সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী চিপস্ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টা: আসামি নাইম গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আরএমপি’র নোটিশ জারি তানোরে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি ইকবাল গ্রেফতার কৃষিতে বির্পযয়ের আশঙ্কা তানোরে চোরাপথে আশা মানহীন সারে বাজার সয়লাব বাঘায় বাবুল হত্যা মামলায় চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ সিংড়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ২২ ব্যক্তির মাঝে চেক বিতরণ
আইসিবির সেই ডিজিএম ও রাজশাহী শাখা প্রধান সাময়িক বরখাস্ত

আইসিবির সেই ডিজিএম ও রাজশাহী শাখা প্রধান সাময়িক বরখাস্ত

আইসিবির সেই ডিজিএম ও রাজশাহী শাখা প্রধান সাময়িক বরখাস্ত
আইসিবির সেই ডিজিএম ও রাজশাহী শাখা প্রধান সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার : ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) উপ-মহাব্যবস্থাপক ও রাজশাহীর শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিব অর্জিত ছুটি (ইএল) নিয়ে জেলে গিয়েছিলেন। তার সেই ছুটি শেষ হয়েছে। জামিনেও মুক্তি পেয়েছেন কারাগার থেকে।

এরপর কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে তিনি নিয়মিত অফিস করছিলেন। কিন্তু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কারাগারে যাওয়ার দিন থেকেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইসিবি। গত রোববার (২ জানুয়ারি) আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন গাজী এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিবি চাকরি প্রবিধানমালা ২০২১ এর প্রবিধি ৫৭ অনুযায়ী তাকে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি শুধু খোরাকি ভাতা পাবেন। একই আদেশে তাকে আইসিবির প্রধান কার্যালয়ের ডিসিপ্লিন, প্রিভেন্স ও আপিল বিভাগে অবিলম্বে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর আব্দুল মোত্তালিবকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। তিনি কারাগারে ছিলেন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। এর দুইদিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

আব্দুল মোত্তালিব নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুরের বাসিন্দা। কিন্তু পরিবার নিয়ে রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি রাজশাহী শাখায় কর্মরত। এই শাখায় অনিয়মের অন্ত নেই। কিন্তু বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আব্দুল মোত্তালিব ক্যাজুয়াল সুপারভাইজার হিসেবে আইসিবিতে কর্মজীবন শুরু করেন। ওই সময় তিনি রাজশাহী কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিধি ভেঙে পড়াশোনা এবং চাকরি দুইই চালিয়ে যান তিনি। ১৯৮৯ সালে স্নাতকোত্তর সনদ দাখিল করে তিনি জুনিয়র অফিসার হন। সিনিয়র পাঁচ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে ২০১৭ সালে তিনি ডিজিএম পদোন্নতি পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মামলার বাদী জেলার বাগমারার কানোপাড়া সাজুরিয়া এলাকার মৎস্যচাষি আব্দুল বারিক মন্ডল। তিনি পুঠিয়ার তাহেরপুর এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করে আইসিবি।

কিন্তু ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ঋণের প্রথম কিস্তির ২৭ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন পুঠিয়ার মঙ্গলপাড়া গোবিন্দপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে গোলাম মোর্শেদ হক (৩৫)। এই ঘটনায় গোলাম মোর্শেদ হককে সহায়তা করেন আইসিবি ডিজিএম ও রাজশাহী শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিব এবং প্রধান কার্যালয়ের এজিএম আহম্মদ হোসেন।

পরে এই তিনজনের নামে আব্দুল বারিক মন্ডল দূর্নীতি দমন আইনে রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্ত করে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম। অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও কোম্পানির ৬০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও উঠে আসে তদন্তে।

আদালতের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জামিন চেয়ে গোলাম মোর্শেদ হক ও আব্দুল মোত্তালিব আদালতে হাজির হন। কিন্তু দীর্ঘ দিন পলাতক থাকায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তবে উচ্চ আদালতে তারা ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়ে যান। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান এই দু’জন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাখা প্রধান আব্দুল মোত্তালিব ১৬ সেপ্টেম্বর অফিসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেরিয়ে যান। কারাগারে যাচ্ছেন এটি নিশ্চিত হয়েই তিনি ছুটির আবেদন দেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ছিল বৃহস্পতিবার। পরের দুই দিন শুক্র এবং শনিবার সরকারি ছুটি। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ১২ দিন অর্জিত ছুটির আবেদন দেন।

তার হাজিরা খাতার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার স্বাক্ষরের ঘরে লাল কালিতে ‘ইএল‘ লেখা রয়েছে। ছুটির আবেদনের কপিওতেও আব্দুল মোত্তালিব উল্লেখ করেন-পৈতৃক জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারা, খাজনা পরিশোধ এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ পারিবারিক কাজে তিনি গ্রামের বাড়ি যাবেন।

তবে কারাবন্দি থাকায় ওই সময় তিনি গ্রামের বাড়িতেও যাননি। বিষয়টি তার গ্রামের প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আব্দুল মোত্তালিবের গ্রামের বাড়ির পাশেই ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুক্তার হোসেনের বাড়ি। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক মুক্তার হোসেনের ফুপা। আব্দুল মোত্তালিবের পরিবারের জমি মাপা কিংবা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিয়ষটি তার চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন এই ওয়ার্ড সদস্য।

কারাগার থেকে বেরিয়ে অফিস করছেন শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল মোত্তালিব। বোরবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজশাহী শাখায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়। কারাবরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। এটি ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি এই কর্মকর্তা।

এ নিয়ে মোবাইলে কথা হয় আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক কিসমাতুল আহসানের সঙ্গে। তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মতিহার বার্তা / ইএবি

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply