শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে ১০লাখ টাকার হেরোইন-সহ ৩জন মাদক কারবারী গ্রেফতার নগরীর তালাইমারীতে গাঁজা কারকারী মল্লিক গ্রেফতার রাজশাহীতে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু রিভার সিটি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রুয়েটকে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করতে হলে সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী চিপস্ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টা: আসামি নাইম গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আরএমপি’র নোটিশ জারি তানোরে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি ইকবাল গ্রেফতার কৃষিতে বির্পযয়ের আশঙ্কা তানোরে চোরাপথে আশা মানহীন সারে বাজার সয়লাব বাঘায় বাবুল হত্যা মামলায় চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ সিংড়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ২২ ব্যক্তির মাঝে চেক বিতরণ
বাঘায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত লাশ গোলাপি বেগম এখন জীবিত !

বাঘায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত লাশ গোলাপি বেগম এখন জীবিত !

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় গত সোমবার ভূট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধারকৃত লাশটি গোলাপি বেগম নামে সনাক্ত করা হলেও গোলাপি বেগম এখন জীবিত। সে বর্তমানে বাঘা থানা হেফাজতে রয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে আড়ানী রেল স্টেশন থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করে প্রথমে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে চেয়ারম্যান থানায় প্রেরণ করেন। তবে এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন প্রকৃত মৃত নারীটি কে?

জানা যায়, ১০ জুন সন্ধ্যায় বাঘা থানার পুলিশ চকবাউসা গ্রামের ভূট্টা ক্ষেত থেকে মুখে মবেল মাখানো অজ্ঞাত (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ১১ জুন উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মনির হোসেনের স্ত্রী গোলাপি বেগমের লাশ বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এবং সে দাবির প্রেক্ষিতে লাশটি গোলাপি বেগমের হিসেবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু গতকাল বুধবার (১২ জুন) সকাল ১০টায় আড়ানী রেল স্টেশন থেকে গোলাপি বেগমকে জীবিত উদ্ধার করে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। সেখানে গোলাপি বেগমের মামা শাকিব হোসেন, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ভাসুর মাজদার রহমান, জা সাজেদা বেগম এর উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসল গোলাপি বেগমকে সনাক্ত করা হয়। তার কাছে থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র নামের সাথে মিল রয়েছে। পরে চেয়ারম্যান গোলাপি বেগমসহ উভয় পরিবারকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে গোলাপি বেগম বলেন, ঈদের আগে বুধবার (২৯ মে) রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করি। এ টাকা নেয়ার জন্য শশুর বাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে পরের দিন বিদ্যুৎ বিল দেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজশাহীর এক আত্নীয়র বাড়িতে যায়। আমি ৬ বছরের সন্তান মারুফ হোসেন ও পেটের ৫ মাসের সন্তানের কথা ভেবে বুধবার সকালে রাজশাহী থেকে মহানন্দা ট্রেনে আড়ানী স্টেশনে আসি। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে চিনতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বলেন, গোলাপি বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আমি বাদি হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডাইরী (জিডি) করি। তার মুখে মবেল মাখানোর কারনে সঠিকভাবে লাশ চিনতে পারিনি।

আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, গোলাপি বেগমসহ উভয় পক্ষ আমার কাছে আসলে, তাদেরকে থানায় প্রেরণ করেছি। তবে আত্নীয় স্বজনের কাছে জেনে এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সনাকÍ করা হয়েছে, সে আসল গোলাপি।

এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসীন আলী জানান, উদ্ধারকৃত লাশটি ভূলভাবে গোলাপি বেগমের আত্নীয়রা সনাক্ত করেন। ময়না তদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা লাশটি পারিবারিক গোরস্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাফন করেন। এ বিষয়ে একটি মামলাও হয়েছে। তবে গোলাপি বেগম ফিরে আসায় প্রকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশ সনাক্ত করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমাদের কাছে ছবি ও আলামত রয়েছে, সেগুলো দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মতিহার বার্তা ডট কম – ১ জুন- ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply