শিরোনাম :
গোদাগাড়ীর ১০টি খাসপুকুর: ক্ষমতার জোরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আ’লীগ নেতারা

গোদাগাড়ীর ১০টি খাসপুকুর: ক্ষমতার জোরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আ’লীগ নেতারা

গোদাগাড়ীর ১০টি খাসপুকুর: ক্ষমতার জোরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আ’লীগ নেতারা

মতিহার বার্তা ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ১০টি সরকারি পুকুর (খাসপুকুর) নিজেদের কব্জায় রেখে বছরের পর বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গোদাগাড়ীর মাদারপুরের মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেলাল জানান, প্রায় ৫০ বিঘা আয়তনের ১০টি খাসপুকুর ইজারা নিয়ে তারা মাছ চাষ করতেন। কিন্তু ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ, জাল ও নৌকাসহ পুকুরগুলো দখল করে নেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল আলমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা রাতের আঁধারে পুকুরগুলো দখল করে নেয়। এসব বিশাল আয়তনের পুকুর বছরের পর বছর স্থানীয়ভাবে ইজারা দিয়ে মোটা অংকের টাকা পকেটে ভরছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

 মৎস্যজীবী সমিতির জেলেরা জানান, পুকুরগুলোর দখল ঠেকাতে তারা গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামানের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফারুক চৌধুরীর মাধ্যমে পুকুরগুলোর দখল ঠেকানোর কথা বলে মৎস্যজীবী সমিতির কাছ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বদিউজ্জামান ১৫ লাখ টাকা নেন। কিন্তু পুকুরগুলো রক্ষা করা যায়নি। আবার সেই টাকা বদিউজ্জামান ফেরতও দেননি। অবশ্য টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বদিউজ্জামান। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন মৎস্যজীবী বলেন, পুকুরগুলো আলম ও তার সহযোগী যুবলীগ নেতা জাব্বার ও ছাত্রলীগ নেতা রানা ভাগবাটোয়ারা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

খাসপুকুর দখল সম্পর্কে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বলেন, তিনি বা তার সহযোগীরা খাসপুকুর দখল করেননি। কারা করেছেন তাও তিনি জানেন না।

গোদাগাড়ীর একাধিক মৎস্যজীবী সমিতির অভিযোগ, চলতি বছরের এপ্রিলে ৯১৩টি খাসপুকুর ইজারার দরপত্র আহ্বানের পর ২৫০টি পুকুরের বিপরীতে ৪২০টি দরপত্র বিক্রি হয়। বাকি ৬৬৩টি খাসপুকুর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের দখলে থাকায় সেগুলো কেউ কেনেনি। নির্দিষ্ট দিনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দরপত্র ফেলতে যায় বিভিন্ন সমিতির জেলেরা। কিন্তু উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দরপত্র ফেলতে বাধা দেয়। এছাড়া ফোন করেও দরপত্র না ফেলার জন্য হুমকি দেয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করে মোহনপুর ইউনিয়নের মৎস্যজীবী সমিতির কয়েক সদস্য বলেন, ২৬ এপ্রিল সাফিনা পার্কে দরপত্রসহ হাজির হতে তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। সেখানে হাজির হলে সব দরপত্র কেড়ে নেয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। সেখানে ২৫০টি পুকুর নিজেরাই নিলামে তোলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এবং এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় ইজারা দেন। এ সব খাসপুকুরের তিন বছরের ইজারা বাবদ তারা সরকারি খাতে মাত্র ১৪ লাখ টাকা জমা দেন। বাকি টাকা তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভূমি-রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ীতে ২০ একরের কম আয়তনের তিন হাজার ৬৫৭টি খাসপুকুর রয়েছে। এর মোট আয়তন পাঁচ হাজার ৫৮০ একর। এর মধ্যে এক হাজার ৩৩টি খাসপুকুর। পুকুরগুলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ১০ বছর ধরে দখলে রেখে মৎস্যজীবীদের কাছে চড়া দামে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে গোদাগাড়ীর ৭৭১টি খাসপুকুর ইজারা দিয়ে তিন বছরের ইজারা বাবদ তিন কোটি ৩৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। ওই সময় এক একর আয়তনের পুকুরের তিন বছরের গড় ইজারামূল্য ছিল ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। তবে এবার একই আয়তনের একটি পুকুরের তিন বছরের ইজারামূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয় হাজার ৫৪২ টাকা। সিন্ডিকেটের কব্জায় পড়ে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

পুকুর ইজারায় সিন্ডিকেটের তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আক্তার যুগান্তরকে বলেন, গত বছর পুকুর সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছি। অবশ্য এ বছর সিন্ডিকেটের প্রভাব তেমন নজরে পড়েনি। রাজস্ব কিছুটা কম হলেও কিছু পুকুর ইজারা দিয়েছি। সুত্র: যুগান্তর

মতিহার বার্তা ডট কম – ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply