শিরোনাম :
হোটেল মালিকের কাছ থেকে ‘চা-বিড়ির’ খরচ নিলো রাবি ছাত্রলীগ

হোটেল মালিকের কাছ থেকে ‘চা-বিড়ির’ খরচ নিলো রাবি ছাত্রলীগ

হোটেল মালিকের কাছ থেকে 'চা-বিড়ির' খরচ নিলো রাবি ছাত্রলীগ
হোটেল মালিকের কাছ থেকে 'চা-বিড়ির' খরচ নিলো রাবি ছাত্রলীগ

রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক খাবার হোটেল মালিকের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে। তবে তাদের দাবি ‘চা-বিড়ির’ খরচ দেয়া হয়েছিল তাদেরকে। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনের খাবারের দোকানদার বাবু।

খাবারে ইটের ছোট খোয়া পাওয়ার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে না জানানোর শর্তে এ টাকা নেন তারা। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দোকানী।

অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত এবং ছাত্রলীগ কার্যনির্বাহী সদস্য নাইমুর রহমান দূর্জয়। এরা ২ জনই রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাবুর দোকানে খাবারের প্লেটে খোয়া পায় ছাত্রলীগ নেতা দূর্জয়ের কাছে আসা ঝিনাইদহ’র ১ ভর্তিচ্ছু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত।

বাবুকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমানের দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার হুমকি দেন তারা। দূর্জয় ফোন করে ডেকে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি বৃত্তকে। বৃত্ত এসে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন দোকানী বাবুকে।

পরে প্রক্টরকে না জানানোর বিনিময়ে তাদের ১৫’শ টাকা দিতে রাজি হন বাবু। কিন্তু দূর্জয় এবং বৃত্ত কোন ভাবেই ৫ হাজার টাকার নিচে নিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর ১৫’শ টাকা থেকে ২ হাজার এবং পরে ২৫’শ টাকা দিতে রাজি হন বাবু। টাকায় মিটমাট না হলে বারবার প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দেয়ার ভয় দেখান তারা।

ঘটনার এক পর্যায়ে ৪ হাজার টাকায় মিটমাট হয় তাদের মধ্যে। দোকানী বাবু ছাত্রলীগকর্মী দূর্জয়ের হাতেই টাকা দেন। পরে দূর্জয় টাকা গুলো সৈকত এবং দূর্জয়ের ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে ২ হাজার টাকা করে ভাগ করে দেন বলে দাবি তাদের।

সৈকত টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করছেন। ঝিনাইদহ থেকে আসা দূর্জয়ের ভর্তিচ্ছুর সাথে ফোনে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার চেষ্টা করলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নাইমুর রহমান দূর্জয় বলেন, “আমি বৃত্ত ভাইকে ফোন দিয়ে ডাকলাম। ভাই এসে বাবু ভাইয়ের সাথে কথা বললেন। বাবু ভাই বললেন আমি এদের চা-বিড়ির খরচ দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন ভর্তি পরীক্ষা চলছিল, আমি ভাবলাম যে তারা প্রক্টরের কাছে গেলেও উনাকে পাইত না। এ প্যারা নেয়ার চেয়ে এভাবেই শেষ করে দিই। তবে খাবারে যে ইটের খোয়া পাওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন সে খোয়া নিজেই দেখেন নি দূর্জয়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি বৃত্ত বলেন, ”আমি কোন টাকা নিই নি। বাবুর দোকানে এ ধরনের খাবারের সমস্যা কথা প্রায়ই শোনা যায়, আপনারাও জানেন। আপনারা সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না কেন?

তাদের মধ্যে সমস্যা হচ্ছিল আমি গিয়ে মিটমাট করে দিয়েছি। আমি ওখানে বিন্দুমাত্র দাঁড়াই নি। আমার পা ধরার মতো অবস্থা করেছে বাবু কিন্তু আমি এতে নিজেকে জড়াতে চাই নি।”
এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ছাত্রলীগের কেউ টাকা নেয়নি।

আমি যতটুকু জানি দূর্জয় টাকা নিয়ে সাথে সাথে ভর্তিচ্ছু আর রাবির ঐ ছেলেটাকে দিয়ে দিছে। তবে সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নাই। এধরেণের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। দোকানদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। কারো কাছ থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তাহলে আমার কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিব।”

এর আগে ইমরান হোসেন নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্তসহ চার জনের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে তার থেকে দশ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে।

মতিহার বার্তা ডট কম – ২৩ অক্টোবর ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply