শিরোনাম :
জিরো টলারেন্সের যুগেও কমছেনা মাদকের ভয়াবহতা, রাজশাহীতে বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা

জিরো টলারেন্সের যুগেও কমছেনা মাদকের ভয়াবহতা, রাজশাহীতে বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা

জিরো টলারেন্সের যুগেও কমছেনা মাদকের ভয়াবহতা, রাজশাহীতে বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা
জিরো টলারেন্সের যুগেও কমছেনা মাদকের ভয়াবহতা, রাজশাহীতে বেপরোয়া ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারাদেশে মাদকের উপর জিরো টলারেন্স প্রধানমন্ত্রীর। তারপরেও কমছেনা মাদকের ভয়াবহতা শিক্ষা নগরী রাজশাহীতে। এরই মধ্যে নগরীর উপকন্ঠ টাংগন এলাকায় র‌্যাবের উপর হামলা চালালো মাদক ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর উপকন্ঠ টাংগন পূর্বপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে র‌্যাব-৫, সদস্যরা জীবনের ঝুকি নিয়ে ৪কেজি গাঁজা ৩০ পিস ইয়াবা ও ধারালো হাসুয়াসহ জসিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। বর্তমানে মাদকের যে ভয়াবহতা তা থেকে মুক্তি চায় রাজশাহীর মানুষ। রাজশাহী নগরী ও জেলা গুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাদকসেবী আর মাদক বিক্রেতার সংখ্যা।

উঠতি বয়সি যুবক, স্কুল-কলেজ, রুয়েট, রাবিসহ সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হেরোইন, ফেন্সিডিল, ইয়াবা সেবন করছে। বেড়ে উঠছে লন্ড-ভন্ড বিকৃতি মস্তিস্ক নিয়ে। বর্তমানে শিশুরাও মাদকের ছোবল থেকে নিরাপদ নয়।

সমাজে বাড়ছে অপরাধ ও অপরাধির সংখ্যা। বর্তমান সময়ে চেয়ে গত ১০ বছর আগেও চুরি ছিনতাই খুনের মতো জঘন্য অপরাধ তেমন ছিলোনা শান্তির নগরী রাজশাহীতে ।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদকের ছড়াছড়ি রাজশাহী শহরেও রয়েছে। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে। গ্রামে একসময়ে যে কিশোর-যুবকরা ফুটবল, হাডুডুসহ নানা খেলায় মেতে উঠে সময় পার করত, এখন সেখানে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াসহ আড্ডা, খোস-গল্প আর মোবাইলে মেতে উঠছে। আর এসব থেকেই একপর্যায়ে গিয়ে মাদকের জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও যুবকরা। আরো ভয়ানক বিষয় হলো, প্রায় প্রতিটি গ্রমেই রয়েছে একেকটি কিশোর গ্যাং। যাদের কাজই হলো, স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের ইভটিজিং থেকে শুরু করে, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে এই গ্যাংরা।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, রাজশাহীর উপজেলা পর্যায়ে এখন মাদকের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। এর একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মূলত কিশোর গ্যাংরা জড়িত মাদক সরবরাহ ও সেবনের কাজে। আর মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এদের মাধ্যমেই গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে গাঁজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবার বিস্তার।

রাবি এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে অন্দোলন করেন। পরে ডিবি পুলিশের ব্যপক অভিযান চালিয়ে চুরি-ছিনতাই হওয়া ২২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে। সাথে ৪জন ছিনতাইকারীকেও আটক করে। আরো অসংখ্য অপরাধ প্রতিনিয়তই ঘটছে নগরীতে। যা রাজশাহী নগরবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। উঠতি বয়সি যুবক-যুবতীদের নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন অভিভাবকরা।

এদিকে ছিনাতাইয়ের পাশাপাশি শহরে মাদকও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মাঝে-মধ্যেই খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাদকে অসক্ত হয়ে সম্প্রতি নগরীর দরিখরবোনা এলাকায় জাহাঙ্গীর নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে।

এদিকে মাদকের সম্রাজ্য গুড়িপাড়া, কাঠালবাড়িয়া মোড়ের টুটুলও লালু, হাড়–পুর, কাশিয়াডাঙ্গা, বালিয়া মোড়, নবগঙ্গা, সোনাইকান্দি, মুরালীপুর এলাকার কুমকুম, ভেত্তাপাড়া, হরিপুরের আলতাব, জাহাঙ্গীর ও শামসুল, আধার কোঠা, দামকুড়া,।

অপরদিকে, নগরীর মহব্ববতের ঘাটের সিমুল, সেন্টু, সাতবাড়িয়া এলাকা, ডাসমারী ও ডাসমারী স্কুল মোড়ের তেল রফিক, জামাল ও পালা।

মিজানের মোড়, শ্যামপুর বালু ঘাটের তারেক, আজিজুলের মোড়। বেলঘরিয়ার বিখ্যাত নারী মাদক ব্যবসায়ী রোকিয়া বেগম। নওদাপাড়া এলাকা, চৌমুহিনি, টাংগন পশ্চিমপাড়া এলাকার সাথি, চায়না, জাহিদ খুচরা ব্যবসায়ী। ওই এলাকার মাদকের গডফাদার ও সবচেয়ে পুরোনো ব্যবসায়ী তজিবার, গালকাটা লিটন, মিদজুল, হাতকাটা রফিক, রিপন।

টাংগন পূর্বপাড়া এলাকার লুৎফর মেম্বার, শুকটা, রাজন, সজল, রায়হান, আজিজুল, কালাম, জসিম, আসাদুল, নবি, এরা মাদকের সবচাইতে বড় ব্যবসায়ী হলেও এরা ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যায়।

এদিকে জেলার চারঘাট থানাধিন ইউসুফপুর বাজারের চায়ের দোকানদার আলেক (ডিলার), স্যান্ডেলের দোকানদার রাসেদুল, রানা, সালাম, রফিক, ন্যাংড়া রেজা, গবরা, আজিজুল সিপাইপাড়ার মাসুম সবচাইতে বড় মাদক ব্যবসায়ী এলাকাতেও মাদকের ছড়াছড়ি।
বেলপুকুর রেলগেট এলাকা, সারদা পুলিশ একাডেমির আশ-পাশের এলাকায় পুলিশ তেমন একটা যায়না বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু অসাধু পুলিশ এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট মাসোহারা নিয়ে থাকে। আর কিছু অসাধু পুলিশ যেখানে মাদক ব্যবসায়ী আটক করে সেখানেই দেন দরবারের মাধ্যমে ছেড়ে চলে আসে।

মাদকের ভয়াবহতা না কমার কারন হিসেবে কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশদেরকেই দায়ি করছেন একাধিক স্থানীয়রা ।

জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের মূখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা ছিনতাই প্রতিরোধে নগরীর মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়েছি। তারপরেও দুই-একটি ঘটনা ঘটছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আরো জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এখনো হেরোইন কারবারিরা সক্রিয় হয়ে আছে। সোহেল রানা, নয়ন ডাক্তার, রোমেন বিশ্বাস, রবিউল ইসলাম বাবু, আবুল কালাম আজাদ, বারইপাড়ার নজরুল ইসলাম, চর কোদালকাটি এলাকার মাহাবুব হোসেন, মাদারপুর এলাকার ইয়াসিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, দাঙ্গাপাড়া এলাকার সিরাজুলের ছেলে রাকিব, বারইপাড়া এলাকার কালুমিয়ার ছেলে সাইদুর রহামন ওরফে খড়ি সাইদুর, মহিষালবাড়ি এলাকার আহাদ মন্ডলের ছেলে জমির হোসেন, মাদারপুর এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে আওলাদ হোসেন, হোসেন আলীর ছেলে শাহাদৎ হোসেন, মাহবুবুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান, বারইপাড়া এলাকার সোহরাবের ছেলে লতিফুর রহমান, হাজরাপুকুর এলাকার মান্নান নাজিরের ছেলে আনারুল ইসলাম, মাটিকাটা ভাটা এলাকার ইসমাইলের ছেলে শফিক ওরফে দিয়াড়া শফিক, তার ভাই রেলবাজার এলাকার একরাম হোসেন, একরামের ছেলে শাহিন হোসেন, বারইপাড়া এলাকার লাল মোহাম্মদের ছেলে আমিনুল ইসলাম, মাদারপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে নয়নসহ আরো ২০-৩০ জনের দল এখনো গোদাগাড়ীর মাদকের নিয়ন্ত্রণ করছে আড়ালে-অবডালে। এর মধ্যে সোহেল বিদেশে পালিয়ে গেছে। অন্যরাও গাঢাকা দিয়ে আছে। তবে কেউ কেউ কেউ এখনো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশে। তবে আন্তজার্তিক মাদক কারবারি শীষ মোহাম্মদ মাদক অস্ত্রসহ আটক হওয়ার পর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও মাদকের কারবার চলছে অনেকটা কৌশলে ও গোপনে।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গোদাগাড়ীর শীর্ষ মাদক কারবারিরা এখন এলাকায় নাই। তবে মাদক যে প্রতিরোধ করা গেছে তা নয়। কারণ গোদাগাড়ীর কে মাদক ব্যবসায়ী আর কে ভালো, সেটা বুঝে এটা মুশকিল। তারপরেও আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি।

 মতিহার বার্তা ডট কম – ২৭ অক্টোবর ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply