শিরোনাম :
বেপরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ব্রিজ

বেপরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ব্রিজ

বেপরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ব্রিজ
বেপরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ব্রিজ

মতিহার বার্তা ডেস্কর্: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বালু মহাল রয়েছে ২৮টি। তন্মধ্যে ছয়টি বালু মহাল নিয়ে মামলা চলমান আছে। বাকী ২০টি বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে পরিবেশ বিপর্যয় এর আশঙ্কায় ইজারা দেওয়া হয়নি।

চলতি বছরের ৫ আগস্ট সোনাইছড়ি বালুমহাল-১ এবং চুনতি বালুমহাল-১ ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু এ দুইটি বালু মহাল ছাড়াও পুটিবিলা, গৌরস্থান, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা, আধুনগর ও চুনতি এলাকার প্রায় সব বালুমহালের শতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সরকার হারাচ্ছে বিশাল রাজস্ব।

এছাড়া সড়কে বালু মহালের রয়েলটির নামে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজরা রয়েলটির নামে বড় বালুর ট্রাক থেকে আড়াই হাজার টাকা, ছোট-মাঝারি ও অন্যান্য গাড়ি থেকে ৪শ থেকে দেড়হাজার টাকা রশিদ দিয়ে চাঁদা নেয়। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজে জড়িত বলে এলাকাবাসী জানান। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সারারাত-দিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে এলাকার শিশু, রোগী ও সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারে না। ফারাঙ্গা এলাকার জসিম উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ইউএনও সাহেবের হস্তক্ষেপে কিছুদিন আগে ফারাঙ্গা ও সড়াইয়ার গ্রামীণ পরিবেশটা শান্ত ছিল। এখন ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।

পুটিবিলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আ স ম দিদারুল আলম জানান, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পুটিবিলা বাজার, মসজিদ ও ডলু ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে এসব স্থাপনা। তাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বালু ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে ভাঙছে এলাকার ব্রিজ, কালভার্ট, খালপাড়, মানুষের ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি। উপজেলার ডলু, টংকাবতী, সরই, থমথমিয়া, জামছড়ি, সুখছড়ি ও হাঙ্গরসহ সব কয়টি খাল থেকে বালু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে লেয়ারের নিচের বালু উত্তোলনের কারণে খালের আশপাশের পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। পানির সঙ্কটের কারণে খালপাড়ের জমিগুলোতে ধান চাষ করা যাচ্ছে না।

পানির অভাবে কৃষকরা ঝুঁকছে পানের বরজের দিকে। যেনতেন ভাবে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। এ দিকে লোহাগাড়া-লামা সড়কের ওপর চুনতি এমচরহাট এলাকায় নির্মিত ডলুব্রিজটির গোড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রিজের মাঝখানের স্তম্ভের নিচের মাটি সরে গিয়ে ৩০ ফুট পাইলিংয়ের ২০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে গেছে।

বিভিন্ন সময় উপজেলার পুঁটিবিলা ইউনিয়নের গৌরস্থান, পানত্রিশা, সরই, হাসনাভিটা ও পহরচান্দা ও চরম্বা, আধুনগর, আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন বালু মহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও থামানো যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের।

মতিহার বার্তা ডট কম – ২৭ অক্টোবর ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply