রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ : ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ : ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলা রাজবাড়ির দক্ষিণে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী ৩ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে ।

সরোজমিনে গিয়ে জানাযায়, পুঠিয়া উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাক (ড্রাইভারের) প্রতিবন্ধী কিশোরী (২২)কে একই এলাকার পাশের বাড়ির রবিন্দ্রনাথ সরকার ওরফে রবিন (৫০) গত ৫ মাস থেকে তার বাড়িতে প্রায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। রবিনের স্ত্রী ঢাকা থাকার সুবাদে বাড়িটি ফাঁকা থাকত বলে জানা যায়।

ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী কিশোরী তার ভাষায় জানায়, রবিন আংকেল আমাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক গানছা দিয়ে আমার হাত, মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে আমাকে বলেন কাউকে বল্লে গলা কেটে মেরে ফেলবো বলে ভয় ভীতি দেখায়। এ সময় ওই কিশোরীর বক্তব্য ভিডিও করা হয়।

এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে ধর্ষিতার ফুপু রাশিয়া বেগম বলেন, ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর আশাকে তার সৎ মায়ের কাছে রেখে হাসপাতালে তার চোখের অপারেশন করাতে যান। বাসায় আসার এক সপ্তাহ পর প্রতিবন্ধী কিশোরী তার ফুপুর কাছে আসে। এ ঘটনার অনুমানিক ২০/২৫ দিন পর লম্পট রবিন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায়। এমন সময় কিশোরীকে প্রশ্ন করা হয় কোথায় যাচ্ছিস ? এর জবাবে সে বলে আংকেল ডাকছে (লম্পট রবিনকে অংকেল বলে ডাকতো কিশোরী)।

পরে আশার বাবা রাজ্জাককে বলেন, রবিন তোমার মেয়েকে ডাকবে কেন ? তার উত্তরে রাজ্জাক উত্তেজিত হয়ে ধর্ষিতার ফুপু রাশিয়াকে বলেন ডাকছে তো কি হয়েছে ? কিশোরীর পিরিয়ডের সময় হওয়াই কোন প্রকার মেন্স দেখা দেইনি। তার পরের মাসেও একই অবস্থা। তার কিছুদিন পর হঠাৎ কিশোরী বমি করতে থাকে।

এদিকে ঘটনার ৩ মাস পর প্রতিবন্ধী কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পুঠিয়ার একটি ক্লিনিকে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরিক্ষা নিরীক্ষার পর সে ৩ মাসের অন্ত:সত্ত্বা বলে জানান।

ধর্ষিতার ফুপু আরো বলেন, ২৫ জানুয়ারি রাতে পুঠিয়া থানায় মামলার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট নিয়ে যান। থানার ওসি বিস্তারিত শুনার পর কোন গুরুত্ব দেননি। বরং উল্টা হুমকি ধামকি দিয়ে বলেন, বাচ্চা হওয়ার পর (ডি.এন.এ) টেস্ট করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বলে সেদিন আমাদের থানা থেকে বের করে দেয়া হয়।

বিষয়টি ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন কে অবগত করলে থানায় একটি প্রাথমিক অভিযোগ গ্রহণ করেন ওসি। এরপর কিশোরী ও তার ফুপু রাশিয়াকে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি থানা হেফাজতে রেখে পরপর দুইদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মহিলা পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি)’তে নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করানো হয়। দুই রাত থানা হেফাজতে রাখা হয় তাদের। পরে আশার আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ইসিজিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় রিপোর্ট ওসি নিজের কাছে রেখে তাদের একটি সাদা কগজে সহি করিয়ে নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।

কিন্তু ঘটনার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুঠিয়া থানার পক্ষ থেকে কোন প্রকার তদন্ত না করে উল্টো কিশোরীর পরিবারকে চুপ থাকার জন্য হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে প্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তঃসত্বা হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার একটি কু-চক্রী মহল লম্পট রবিনের সাথে আতাত করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে। এমনকি কিশোরীর পরিবারকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছে।

পুঠিয়া থানা ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন জানান, প্রতিবন্ধী কিশোরী সরকারি তালিকা ভুক্ত একজন প্রতিবন্ধী। সে প্রতিমাসে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছে। রবিন যে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা সত্যিই দুঃখ জনক। শুনেছি ঘটনাটি ধামাচাপার জন্য একটি মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এব্যপারে প্রতিবন্ধীর ফুপু রাশিয়া বেগমসহ স্থানীয় লোকজন লম্পট রবিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। ধর্ষক রবিনের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে মিঠুর স্ত্রীর নিকট ধর্ষকের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়। তবে তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রবিনকে একাধকিবার ফোন দিলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে রবিনের বড় ছেলে মিঠুনকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে সে বলে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তারা আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার কোন সত্যতা নেই। তিনি আরো বলেন, বাচ্চা ভূমিষ্ট হলে ডিএনএ টেষ্ট করানো হবে।

আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাকিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের খবর পেয়ে আমি নিজ উদ্দ্যোগে ফোর্স দিয়ে রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পরিক্ষা করিয়েছি। রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

মতিহার বার্তা ডট কম  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *