দুই কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা সেই পুলিশ সদস্যের ফাঁসির আদেশ

দুই কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা সেই পুলিশ সদস্যের ফাঁসির আদেশ

মতিহার বার্তা ডেস্ক : মোবাইলে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আবাসিক হোটেলে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ দুই জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলায় জাড়িত অন্য পাঁচজনকে চার বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে কিশোরগঞ্জের ১ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক ছিল।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হাটবারেঙ্গা গ্রামের মো. আবদুস সুবহানের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল মো. মনিরুজ্জামান ও ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কাওখারা গ্রামের অধিবাসী ফজলে আলী হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার।

চার বছরের দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঢাকার কাওরান বাজারের হোটেল ওয়েস্টার্ন গার্ডেনের মালিক জয়নাল আবেদীন, কর্মচারী দিলবর, আবুল হোসেন, বাবুল মিয়া ও কবির হোসেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামান নিজেকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী শামীম নিজেকে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই কলেজছাত্রীর (বান্ধবী) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এক পর্যায়ে তারা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই শহরের রথখোলা এলাকার বৌ রাণী বিউটি পার্লার থেকে ওই দুই বান্ধবীকে কৌশলে সঙ্গী করে নিরুদ্দেশ হয়। নিজেদের বাড়িতে না নিয়ে একই দিন বিকালে তারা দুই কলেজছাত্রীকে নিয়ে ঢাকার কাওরানবাজারের হোটেল ওয়েস্টার্ন গার্ডেনে ওঠে।

ঢাকার হোটেলে গিয়ে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে বেঁকে বসে কলেজছাত্রী ঊর্মি ও সুমি। আর তারপর ওই দুই তরুণীকে শ্বাসরুদ্ধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে পুলিশ কনস্টেবল মনির ও ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির কর্মচারী শামীম হাওলাদার।

তাদের লাশ দুই হোটেল বয় মিলে শাক-সবজির ময়লা আবর্জনার সঙ্গে বাঁশের ঝুড়িতে ভরে একটি তেজগাঁও রেলস্টেশনের কাছের ডাস্টবিনে এবং অপরটি সোনার গাঁ হোটেলের পাশের ঝিলে ফেলে আসে।

ঘটনার পরদিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ এবং একই সপ্তাহে রমনা থানা পুলিশ এ দুই লাশ উদ্ধারের পর পৃথক ইউডি মামলা রুজু করে। আর এদের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের সহযোগিতায় আজিমপুর ও জুরাইন গোরস্তানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৭ জুলাই কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করা হলেও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না এ দুই তরুণীর। পরে এ দুই কলেজ ছাত্রীর পিতা পুলিশের তদানীন্তন আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা চাইলে আইজিপির নির্দেশে পুলিশ ও ডিবির বিশেষ দল অধিকতর তদন্তে নেমে ঊর্মির মোবাইলফোনে আলাপের সূত্র ধরে বহুল আলোচিত দুই তরুণী নিখোঁজ ঘটনার চোরাগলির সন্ধান পায়।

২০১০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মনিরুজ্জামান ও শামীম হাওলাদারসহ চারজনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করে। এ সুযোগে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায় আসামিরা। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিতে এলে পুলিশ জামিন না দিয়ে তাদের রিমান্ড দেয়ার জন্য ৯ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালত জামিন না দিয়ে তাদের ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে দেয়।

পরে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ দুই তরুণীকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয় প্রতারক প্রেমিকরা। একই সময় গ্রেফতারকৃত হোটেল ওয়েস্টার্ন গার্ডেনের বয় দিলবরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানায়।যুগাস্তর

মতিহার বার্তা ডট কম – ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *