কাশ্মীরের অনেক আগেই যুদ্ধের গন্ধ পেয়েছিল বাংলার শহর

কাশ্মীরের অনেক আগেই যুদ্ধের গন্ধ পেয়েছিল বাংলার শহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ দেশ জুড়ে। পাকিস্তান শান্তির বার্তা দিয়ে সেনাকে ভারতে ফেরাচ্ছে। একইদিনে আর এক প্রান্তে চলছে সেনার সঙ্গে পাক জঙ্গির গুলির লড়াই। কাশ্মীরে মানুষের আজকের যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতি অনেক আগেই দেখেছিল হাওড়া , কলকাতা। বোমা ফেলেছিল জাপানিরা। কেউ প্রাণ বাঁচাতে পালিয়েছিল। অনেকেই লড়েছিল সেই পরিস্থিতির সঙ্গে। কাশ্মীর যেমন চিনছে যুদ্ধকে বাঙালি অনেক আগেই দেখেছে সে সব দিন।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে তামাম দুনিয়া বিশ্বযুদ্ধের বিভৎস চেহারা নিল। লড়াই-ধ্বংস-মৃত্যু এরাই সত্য। একদিকে মিত্র শক্তি অর্থাৎ বৃটিশ, ফরাসী, আমেরিকা এবং রাশিয়া একজোট। অন্যদিকে জার্মানি, ইতালি ও জাপান একশিবিরে। জার্মানির হিটলার বিশ্বজয়ের নেশায় বিভোর। এর এইসময়ই তার কলোনী ভারতবর্ষকে যুদ্ধ শিবিরে অন্তর্ভুক্ত করে । খাদ্য ও সৈন্য সংগ্রহ করে যুদ্ধের স্ট্রাট্যাজি হিসেবে বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলে সামরিক ঘাঁটি।

‘সারেগামা পা ধা নি । বোম ফেলেছে জাপানি
বোম এর মধ্যে কেউটে সাপ , ব্রিটিশ বলে বাপ রে বাপ ।’

ব্রিটিশরা তাদের সাম্রাজ্য টলমল করছে বলে ‘বাপ রে বাপ’ বলে চেচিয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষ খুঁজছিল মাথা গোঁজার জায়গা। কেউবা বাধ্য হয়েছিল যোগ দিয়েছিল যুদ্ধ বাহিনীতে। যেমন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসিত পরাধীন ভারতে সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য সেনাদের ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল হাওড়া জেলার সাঁকরাইল থানার অধীনে বাসুদেবপুরের বর্তমান মিলিটারি মাঠ(নগর)নাম দেওয়া এলাকায় ।

মাঘ মাসের এক বিকেল বেলায় বোমা পড়েছিল হাওড়া শহরেও। এক মহিলা ও এবং এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। বোমা পড়েছিল নবীন সেনাপতি লেনে। হাওড়ার কাসুন্দিয়া অঞ্চলের ২৮ ,নবীন সেনাপতি লেনের বাড়িটির অদূরেই পড়েছিল বোমা। সেই বাড়ি এখনও বর্তমান। সে কথা ভেবে এখনও শিউড়ে ওঠে মানুষ।

বাংলায় বিট্রিশদের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি ছিল দমদম বিমানবন্দর। কিন্তু বিট্রিশদের মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল যদি প্রতিপক্ষ হানা দেয় এখানে। যদি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সবকিছু! তাই শঙ্কিত ও বিচলিত মিত্র শক্তির খোঁজ পড়ল বিকল্পের । পরিকল্পনা? যদি দমদম বিমানবন্দরের পতনও ঘটে তবে তারা বিকল্প বিমানবন্দর গড়ে তুলে করবে সক্রিয় প্রতিরোধের চেষ্টা। সেই লক্ষ্যেই দমদম বিমানবন্দর থেকে ২০ মাইল মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল নতুন বিমানঘাঁটি সূত্র:কলকাতা ২৪x৭

মতিহার বার্তা ডট কম ০২ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *