শিরোনাম :
গোলহীনতার জট খুলেই কম্বোডিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ

গোলহীনতার জট খুলেই কম্বোডিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ

মতিহার বার্তা ডেস্ক : ম্যাচ হলে গোলের ব্যাপারটা বোঝা যাবে। তবে এখন নাবিব নেওয়াজ জীবন ও মতিন মিয়া দারুণ খেলছে ঘরোয়া ফুটবলে। দুজনই গোল পাচ্ছে। সুবাদে দলের ফরোয়ার্ড লাইন আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে হচ্ছে আমার। তারা গোল পেলে অবশ্যই কম্বোডিয়া ম্যাচে বাংলাদেশ দলের চেহারাটা বদলে যাবে।

 তিন গোলরক্ষকের মধ্যে আনিসুর রহমান (জিকো) এ মুহূর্তে দলের সেরা গোলরক্ষক। ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত কিছু ম্যাচ খেলেছে বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষক।

বাংলাদেশ দলের বড় দুর্বলতা দুই জায়গায়—গোলরক্ষক ও স্ট্রাইকিংয়ে। আপাতভাবে এ দুই পজিশনের দুর্বলতা ঢেকে নতুন চেহারার দল নিয়ে জেমি ডে যাচ্ছেন কম্বোডিয়ায়। নম ফেমে আগামী ৯ মার্চ কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচকে ঘিরে

জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচের লক্ষ্য দুটো—‘কম্বোডিয়ার ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, দুটো লক্ষ্য নিয়ে আমরা যাচ্ছি। একটি হলো ভালো ফুটবল খেলে ম্যাচ জেতা। অন্যটি হলো এখানকার পারফরম্যান্স দিয়ে বাহরাইনের জন্য একটা প্রত্যাশা জাগানো। সেটা

অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ম্যাচ হলেও জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় ওই দলে থাকবে। তাই কম্বোডিয়ার বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্সটা ইতিবাচক হওয়া জরুরি।’ কম্বোডিয়ার ম্যাচ শেষ করে জাতীয় দল ঢাকায় ফিরবে ১১ মার্চ। ওই দিন রাতেই অনূর্ধ্ব-২৩ দল কাতারের উদ্দেশে বিমানে চড়বে। সেখানে ১০ দিন প্র্যাকটিস শেষে দলটি আবার ঢাকায় ফিরে বাহরাইনে যাবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বাছাই পর্ব খেলতে।

প্রাথমিকভাবে তারা দিয়েছিল ২৭ জনের দল। তার আয়তন ছোট করে ২৩ জনের দল দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন আবাহনীর দুই মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম ও সোহেল রানা, আরামবাগের গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম ও ফরোয়ার্ড আরিফুর রহমান। জাতীয় দল

কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ দল গঠন প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের দুই কোচ সব ভেন্যু ঘুরে ঘরোয়া ফুটবল দেখেছেন, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখেছেন; এরপর জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই করেছেন।’ ২৩ জনের দলে বসুন্ধরা কিংসের

সর্বোচ্চসংখ্যক আটজন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। এই দলের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান যেমন ক্লাব দলে নিয়মিত হয়েছেন, তেমনি এখন জাতীয় দলে বাকি দুই গোলরক্ষককে টপকে তিনি এখন ১ নম্বরে। তার ইঙ্গিত মিলছে কোচের কথায়। আরেকটি নতুন আবিষ্কার হলো মতিন মিয়া। এ ফরোয়ার্ডেরও দারুণ ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে এসে ক্লাব দলে নিয়মিত হয়েছেন এ

ফরোয়ার্ড। দুর্দান্ত খেলছেন এবং চারটি গোলও করেছেন। সুবাদে জাতীয় দলেও তাঁর রিজার্ভ বেঞ্চে অপেক্ষা ফুরিয়েছে। এ ছাড়া নতুন নাবিব নেওয়াজ জীবনকে পেয়ে কোচ যেন জাতীয় দলে গোলের নতুন আশা খুঁজছেন। আবাহনীর হয়ে এই ফরোয়ার্ড ৯ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। সুতরাং কম্বোডিয়ার বিপক্ষে গোল নিয়ে আগের মতো ধোঁয়াশা থাকছে না জেমি ডের।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

সর্বশেষ জাতীয় দল নিয়ে কোচ নাড়াচাড়া করেছেন গত অক্টোবরে। সেই বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় হয়েছিল ফিলিস্তিনের কাছে হেরে। পাঁচ মাস বাদে আবার জাতীয় দল নিয়ে মাঠে নামার আগে জেমি ডে বলছেন, ‘আমাদের দলের চেহারাটা খুব ভালো ছিল গত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে। তাদের ফিটনেসে অনেক উন্নতি হয়েছিল, খেলায় ছিল খুব লড়াকু মেজাজ। এর পর থেকে তারা ঘরোয়া ফুটবলের সঙ্গে আছে। সুতরাং ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তারা খেলার মধ্যেও আছে। এটা ইতিবাচক। আমরা আগেভাগে কম্বোডিয়ায় গিয়ে শুধু টিম কম্বিনেশনের কাজ করব। ম্যাচের কৌশল নিয়ে ট্রেনিং হবে।’ ২৩ জনের এ দলটি তাঁর আগে থেকেই চেনা। তাঁর দর্শন অনুযায়ীই তারা মাঠে খেলতে চেষ্টা করে। দর্শনটা হলো সর্বোচ্চ দিয়ে খেলব। গোল খাব না, প্রতিপক্ষকে খেলতে দেব না। পারলে নিজেরা কাউন্টারে উঠব। সেখান থেকে সরে এসে গতকাল জাতীয় দলের কোচ একটু অন্য রকম করে বলছেন, ‘না। আমরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব না। তবে আমাদের রক্ষণভাগ খুব শক্তিশালী। আমরা ভালো ফুটবল খেলে জেতার চেষ্টা করব।’ এবার তাহলে জেতার জন্যই কম্বোডিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

মতিহার বার্তা ডট কম ০৬ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *