রাবিতে ভারত বাংলাদেশ ম্যাগাজিন মেলা সোমবার

রাবিতে ভারত বাংলাদেশ ম্যাগাজিন মেলা সোমবার

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত ও বাংলাদেশের ছোটকাগজ ও পত্রিকার কর্মী-সম্পাদক-লেখক-পাঠকের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল সম্পাদিত সাহিত্যবিষয়ক ছোটকাগজ ’চিহ্ন’ এই আয়োজন করছে।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে শহীদ ইকবাল বলেন, “সোমবার সকাল ১০টায় শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে ‘চিহ্নমেলা চিরায়তবাঙলা’ নামে এই মেলা উদ্বোধন করবেন ভারতের কথাশিল্পী দেবেশ রায়।

“মেলায় ভারতের ৩০টি ও বাংলাদেশের ৯৫টি ছোটকাগজ ও পত্রিকার কর্মী-সম্পাদক-লেখক-পাঠক থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।”

তিনি বলেন, এর আগে ২০১১, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে এ মেলার আয়োজন করা হয়। সাহিত্য পত্রিকা চিহ্ন ২০০০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। লেখালেখি ছাড়াও এখানে ধারাবাহিক পাঠচক্র, রোববারের আড্ডাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ হয়। গত ১৯ বছরে চিহ্ন ৩৬টি সংখ্যা বের করেছে।

এবার মেলায় সৃজনশীল ও মননশীল শ্রেণিতে দুইজনকে ‘চিহ্ন পুরস্কার’ ও দুই বাংলার আটটি ছোটকাগজকে ‘ছোটকাগজ সম্মাননা ২০১৯’ দেওয়া হবে বলে জানান শহীদ ইকবাল।

তিনি বলেন, সৃজনশীল শাখায় পুরস্কার পাচ্ছেন কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার নতুন অন্তরপুর গ্রামের সরকার মাসুদ (১৯৬১)। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল, আবহমান উলুধ্বনি (১৯৮৭), নিভৃতিচর্চা (১৯৯১), কাচপোকার ঘূর্ণিপোকা (১৯৯৬), নির্বাচিত কবিতা (২০০৭), জঙ্গলের চাবি (২০১৩)। এছাড়া তিনি রচনা করেন তিনটি গল্পগ্রন্থ ও প্রবন্ধের বই।

“মননশীল শাখায় নির্বাচিত হয়েছেন যশোরের কৃষ্ণনগরের হোসেনউদ্দীন হোসেন (১৯৪১)। তার কাব্যগ্রন্থগুলো হল, যশোরাদ্য দেশ (১৯৭৪), অমৃত বৈদেশিক (১৯৭৪), ঐতিহ্য আধুনিকতা ও আহসান হাবীব (১৯৮৫), বাংলার বিদ্রোহ (তিন খণ্ড, ১৯৯০), রণক্ষেত্রে সারাবেলা (২০১২), সাহিত্যে চিত্রবিচিত্র (২০১৯), কালান্তরের রূপরেখা (২০১৯)।”

আয়োজনে আরও থাকছে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ‘প্রভাত চৌধুরীর রবীন্দ্র-তর্পণ’ নামে আলোচনা অনুষ্ঠান। বেলা সাড়ে ১১টায় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে বাঙালি জীবনের সাহিত্য’ বিষয়ে কথা বলবেন প্রভাত চৌধুরী, সনৎকুমার সাহা, জুলফিকার মতিন, মহীবুল আজিজ, প্রবালকুমার বসু, ইমানুল হক, কানাই সেন ও সোয়েব শাহরিয়ার।

কবিতা পাঠ দিয়ে শুরু হবে মেলার দ্বিতীয় দিন। এরপর ‘সাহিত্য ও বিজ্ঞান : দোঁহে অভেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিধানচন্দ্র দাসের প্রবন্ধকে কেন্দ্র করে কথা বলবেন ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক, অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল্লাহ্, অধ্যাপক গোলাম কবীর ও অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

শহীদ ইকবাল বলেন, সবশেষে পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়ার পর সঙ্গীত পরিবেশন করবে কলকাতার গানের দল ‘মনভাষা’। মেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুস সোহবান, উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, অর্থনীতিবিদ সনৎকুমার সাহাসহ দুই বাংলার অনেকেই উপস্থিত থাকবেন।

মতিহার বার্তা ডট কম ০৯ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *