শিরোনাম :
রাজশাহীতে গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে উপজেলার হাট বাজারে লিফলেট বিতরণ করলেন বিএনপি নেতা উজ্জল কমলগঞ্জে বিদেশি মদসহ আটক ১ ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক শিক্ষক আটক বাজারে এল ‘বিশ্বের সবচেয়ে দামি ওষুধ’, এক ডোজের দাম ২৮ কোটি টাকা! সারা দিনে দু’লিটার জল খাওয়ার কি সত্যিই কোনও প্রয়োজন রয়েছে? কী বলছে গবেষণা? শীতের সন্ধ্যায় বন্ধুরা আড্ডা দিতে আসবেন? অল্প খরচে বাড়ি সাজাবেন কী ভাবে? শীত আসতেই পা ফাটতে শুরু করেছে বয়স ১২৬! কী খান, কী পান করেন, ‘রহস্য’ জানতে ভিড় উপচে পড়ল কলকাতার হাসপাতালে যুদ্ধের নয়া অস্ত্র মিলিব্লগার! ‘ভদকা খেয়ে মরলে কেউ খোঁজ রাখে? ছেলে তো দেশের জন্য শহিদ হয়েছে’! রুশ সেনার মাকে পুতিন
রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের বিরুদ্ধে। ঘটনার বিচার চেয়ে গত রোববার (২৪ মার্চ) কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষিকা।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ্য করেন, ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিলের এ ঘটনা সামনে আসায় ওই শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুত করেন অধ্যক্ষ। তাই আবার চাকরিতে পুর্নবহালের আবেদন করেন তিনি। এছাড়া ভুক্তভোগী শিক্ষিকা অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের আত্মীয়। আর এ কারণেই এতোদিন মুখ খোলেননি।

ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, অধ্যক্ষ কেবল তার-ই নন, অনেক কোমলমতি ছাত্রীর শ্লিলতাহানি করেছেন। তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল অধ্যক্ষ তার নিজ বাড়িতে তাকে ল্যাপটপ আনতে পাঠিয়েছিলেন। সরল বিশ্বাসে গিয়ে দেখেন, বাড়ির সদর দরজায় তালা দেয়া। ওই সময় অধ্যক্ষকে পেছনে দাঁড়ানো দেখেন তিনি। এসময় কৌশলে অধ্যক্ষ তাকে তার শোবার ঘরে নিয়ে যান। পরে তাকে কুপ্রস্তাব দেন, নানান প্রলোভনও দেন। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। ফাঁকা বাড়িতে তাকে জাপটে ধরে শ্লিলতাহানির চেষ্টা করেন। তবে কোনরকমে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি।

ওই শিক্ষিকার ভাষ্য, অধ্যক্ষের বাড়ি থেকে ফিরেই তিনি তৎকালীন প্রভাষক মোকসেদ আলীকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। লোকলজ্জায় বিষয়টি অন্য সহকর্মীদের না জানিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। ঘটনার কিছুদিন পর অধ্যক্ষ তাকে কলেজে ডেকে উল্টো প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন। একই সাথে কলেজে একটি কম্পিউটার প্রদানের শর্ত দেন। কিন্তু কোন শর্তই তিনি মানতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত তাকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেন অধ্যক্ষ।

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নিজ অফিস কক্ষেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে অধ্যক্ষ রিপন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন থেকেই শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভে নামে এলাকাবাসী। এরপর একে একে অধ্যক্ষের কুকর্ম ফাঁস হতে শুরু করে।

ঘটনার চারদিনের মাথায় ওই ছাত্রীসহ আরও দুই ছাত্রী এবং এক শিক্ষিকা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন।

এছাড়া আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরাও। অভিযোগ তদন্ত হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

পরে অপহরণ ও ধষর্ণচেষ্টার অভিযোগে একমাস পর ৮ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক ছাত্রী। ওই দিনই জেলার পবা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।

এর পাঁচ দিনের মাথায় ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ছাত্রী অপহরণ ও ধষর্ণচেষ্টায় তাকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। বর্তমানে জামিনে রয়েছেন অধ্যক্ষ।

এদিকে, অধ্যক্ষকে স্বপদে ফেরাতে তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। গত ২১ মার্চ বিকেলে এই ইস্যুতে নিজ দফতরে পরিচালনা কমিটির সভাও করেছেন ইউএনও। ইউএনওর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের পক্ষ নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যক্ষ কলেজে ফিরছেন-এমন খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে। ন্যায় বিচার নিয়েও শঙ্কিত নিপীড়নের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবার। তাছাড়া তার অপকর্মের সাক্ষ্য দেয়ায় চাকরি নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষক-কর্মচারীরা।

তবে শিক্ষিকার এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপন। তার দাবি, তাকে ফাঁসাতে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তাছাড়া ওই শিক্ষিকা ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। আর পুর্নবহালের সিদ্ধান্ত এখনো পাননি বলে জানান অধ্যক্ষ।

এবিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অত্র কলেজেরে সভাপতি জাহিদ নেওয়াজ এবিষয়ে কোন কথা বলতে চান নি।

মতিহার বার্তা ডট কম ২৬ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *