উত্তর প্রদেশের হেভিওয়েট কেন্দ্রে মোদীর বিরুদ্ধে ১১১ জন কৃষক প্রার্থী !

উত্তর প্রদেশের হেভিওয়েট কেন্দ্রে মোদীর বিরুদ্ধে ১১১ জন কৃষক প্রার্থী !

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উত্তর প্রদেশের বারাণসী দুনিয়ার অন্যতম প্রাচীনতম নগরী বলে পরিচিত ৷ সুপার হেভিওয়েট কেন্দ্র৷ এখান থেকেই লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ সেখানে লোকসভার লড়াই চমকপ্রদ৷ কারণ এই কেন্দ্রে এবার মোদীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী শতাধিক কৃষক ৷ কেন এতজন কৃষক একসঙ্গে এই ভোট যুদ্ধে নামছেন ? বিবিসি রিপোর্টে উঠে এসেছে তারই বিভিন্ন দিক ৷

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধু বারাণসী কেন্দ্রেই নয়, তেলেঙ্গানা রাজ্যের নিজামাবাদ কেন্দ্রে বিজেপির সহযোগী দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির শীর্ষ নেত্রীর বিরুদ্ধে ভোটে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পেশ করেছেন সেখানকার দুশোরও বেশি কৃষক।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দেবেন ১১১ জন কৃষক। এরা সবাই তামিলনাডুর কৃষিজীবী। এই কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের উপযুক্ত দাম আর দক্ষিণ ভারতের নদ-নদীগুলির সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে চাষের জলের ব্যবস্থা করার দাবীতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। কিন্তু সরকার তাদের কথা কানেই তুলছে না।

এদিকে মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে চলা ১১১জনের নেতা আয়াকান্নু৷ তামিলনাড়ুর এই কৃষক নেতা বিবিসি-কে জানান, “আমাদের কাছে এত অর্থ নেই, যা দিয়ে মনোনয়ন পেশ করা বা প্রচার চালানো যায়। তাই বারাণসীতে গিয়ে আমরা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করব। অনেক নাগা সন্ন্যাসী যেভাবে কোনও পোশাক না পরেই থাকেন সেখানে, আমরাও সেইভাবেই ভিক্ষা চাইব মানুষের কাছে। সেটাই হবে আমাদের দুর্দশার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরার পদ্ধতি।”

আয়াকান্নু আরও জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রবল কৃষক আন্দোলন হয়েছে৷ তার পরেও সরকারের নীরব থাকায় এবার হচ্ছে সরাসরি লড়াই৷ বারাণসী কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ালে যদি আমাদের কথা সরকারের কানে পৌঁছায়, সেই আশাতেই আমরা সবাই ওখানে যাচ্ছি। ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছে৷

সম্প্রতি দেশজুড়ে বিরাট কৃষক বিক্ষোভ সংঘটিত হয় ৷ মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে মুম্বই পর্যন্ত পদযাত্রা করে এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় সারা ভারত কৃষকসভা৷ পরে সেই বিক্ষোভের রেশ গিয়ে পড়ে উত্তর ভারতে৷ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে হাজার হাজার কৃষক জমায়েত করেন দিল্লিতে৷ বামপন্থী কৃষক সংগঠনের আহ্বানে বিক্ষোভে আরও অনেক কৃষক সংগঠন৷ তামিলনাড়ু থেকে আসা কৃষকরা মড়ার খুলি নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেন৷ অনেকে নগ্ন হয়েও বিক্ষোভে অংশ নেন৷ তাঁদের অভিযোগ, লাগাতার কৃষক আত্মহত্যা হচ্ছে দেশে অথচ সরকার কর্পোরেট সংস্থাকে সুযোগ দিতে ব্যাস্ত৷

বারাণসীতে প্রার্থী হতে চলা সেই বিক্ষোভকারী কৃষকদের নেতা আয়াকান্নু বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সংগঠনের প্রায় ৪০০ সদস্য দিল্লিতে ১৪০ দিন ধরে ধর্না দিয়েছেন। তবুও সরকারের মনোভাব পাল্টায় নি। এবার তাই ভোটের লড়াইতে সবাই মিলে মোদীর বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে চলেছেন। এর ফলে সরকারের টনক নড়বে৷ ভোটে লড়লেও জেতার আশা করছেন না এরা কেউ। তবে নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রে গিয়ে সেখানকার মানুষকে বোঝাতে চাইছেন যে তাদের এলাকার সংসদ সদস্য কীভাবে চাষিদের দাবিকে উপেক্ষা করে চলেছেন।

বিবিসি রিপোর্টে উঠে এসেছে, কয়েক লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন ভারতে৷ গত কয়েক বছর ধরেই কৃষিক্ষেত্রে সমস্যা বেড়ে চলেছে। কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, চাষিরা ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ঋণ বেড়েই চলেছে। “এই দুইয়ের জাঁতাকলে পরে প্রতিদিন গড়ে ৫২ জন চাষি আত্মহত্যা করছেন। যখন থেকে দেশের অর্থনীতি উদারীকরণ হয়েছে, সেই ১৯৯২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চার লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।”

কৃষক সভার সর্বভারতীয় নেতা হান্নান মোল্লা৷ তিনি বিবিসিকে জানান-মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, বা হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো দেশের অন্তত ১৭-১৮ টি রাজ্যে কৃষকদের আত্মহত্যা হচ্ছে সরকারি নীতির কারণে৷ মধ্যপ্রদেশে যেমন চাষিদের ওপরে গুলি চলেছে, আবার মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক বহু দিন ধরে মিছিল করে হেঁটে মুম্বইতে গিয়ে সরকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে এসেছেন।

মতিহার বার্তা ডট কম  ২৭  মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *