শিরোনাম :
‘ভদকা খেয়ে মরলে কেউ খোঁজ রাখে? ছেলে তো দেশের জন্য শহিদ হয়েছে’! রুশ সেনার মাকে পুতিন মূক ও বধির তরুণীকে গণধর্ষণ! ছাগল চরাতে গিয়ে লালসার শিকার দলিত কন্যা রশ্মিকার ভুলের শাস্তি? তাঁর নাম উচ্চারণ করতেও এ বার ভুলে গেলেন পরিচালক ঋষভ সৎকারের আয়োজনের মাঝে উঠে বসল ‘মড়া’! হাসপাতালে ছুটলেন আত্মীয়-পরিজন রাজশাহীতে অবহেলিত মানুষের গ্রাম চর-মাঝারদিয়া! বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তি হওয়া উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য: কিম কাতারে বিশ্বকাপ ভক্তদের গ্রামের কাছে ভয়াবহ আগুন রাবিতে সমন্বিত হল সমাপনী ২৮ ডিসেম্বর সমকামিতা নিষিদ্ধ করলো রাশিয়ার পার্লামেন্ট রাজশাহীতে অবহেলিত মানুষের গ্রাম চর-মাঝারদিয়া!
রাজশাহীর পবায় ফসলী জমি উজার করে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব : নিরব কর্তৃপক্ষ

রাজশাহীর পবায় ফসলী জমি উজার করে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব : নিরব কর্তৃপক্ষ

কাজিম বাবু :  রাজশাহীর পবায় ফসলী জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব চালাচ্ছেন প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। এতে কমছে আবাদি জমির সংখ্যা। পুকুরের মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে সড়কগুলো। পাশাপাশি মাটি বহনকারি ট্রলি চলাচল করায় সড়কগুলো খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ পথচারী। বিঘ্ন ঘটছে যানবাহন চলাচলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের নবীবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে চলেছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্বেও অন্যের জমি লীজ নিয়ে তিনি এ কর্মকা- অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেও শত শত বিঘা ফসলী জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, ফসলি জমি নষ্ট করে কোন উন্নয়ন বা পুকুর খনন করা যাবে না। তার পরেও জেলার পবা ও দুর্গাপুরে এক শ্রেনির অসাধু অর্থলোভী প্রভাবশালী লোকজন এ অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। এতে কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। অপরদিকে বেকার হয়ে পড়ছে কৃষকরা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় মাদকের মত ভয়ংকর পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন গ্রামাঞ্চলের লোকজন। তবে এসব খনন বন্ধে প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাইফুল বারি ভুলু বলেন, ৭ নং ওয়ার্ডের বিলে অবৈধভাবে একটি পুকুর খনন হচ্ছে। এই পুকুর খননে খাল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় দুই হাজার একর জমির বোরো, আমন, ইরি ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন সক্রিয় হলে অবৈধভাবে ফসলী জমি নষ্ট করে কেউ পুকুর খনন করতে পারতেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলাব্যাপী যে পরিমাণ জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে; তাতে আর পুকুরের প্রয়োজন নেই। ভালভাবে মাছ চাষ করলে মাছের চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ উপজেলায় চাহিদার অতিরিক্ত পুকুর খনন করা হয়েছে। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কিন্তু এভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হলে একসময় খাদ্যে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, উপজেলার কয়েক জায়গায় অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ সঠিক নয়। জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খননের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে মোবাইলে অভিযুক্ত নবীবুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মতিহার বার্তা ডট কম  ২৮ মার্চ ২০১

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *