অমিতাভ-মুনমুন: ভোটের বক্স অফিসে এঁরাই সুপারহিট

অমিতাভ-মুনমুন: ভোটের বক্স অফিসে এঁরাই সুপারহিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের কলকাতা ২৪x৭ এর একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,  রাজনীতিবিদদের থেকে তাদের ফ্যান ফলোয়ার কিছু কম নয় ৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয় গ্ল্যামার ৷ ভোটে ফায়দা তুলতে অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের এই দুটি গুণকে ক্যাশ করে তাদের রাজনীতির ময়দানে টেনে আনেন রাজনীতিবিদরা৷ আর একবার সাংসদ বা বিধায়ক বনে গেলে অভিনেতাদের ‘লাইফ জিঙ্গালালা’৷

তবে সকলেই যে রাজনীতিতে ছক্কা হাঁকান এমনটাও নয়৷ সে যাই হোক অতীত রেকর্ড বলছে, প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে নেমে বাঘা বাঘা রাজনীতিকদের পর্যদস্তু করেছেন এই অভিনেতারা৷ নির্বাচনে তাদের হারিয়ে পেয়ে যান জায়ান্ট কিলারের খেতাব৷ সেই ট্র্যাক রের্কডকে মাথায় রেখে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ডান-বাম কমবেশি সব রাজনৈতিক দলের ভরসার পাত্র-পাত্রী হয়ে উঠেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা৷

অভিনয় জগত থেকে রাজনীতিতে পা রাখা তারকা তালিকায় নয়া সংযোজন উর্মিলা মাতণ্ডকর৷ কংগ্রেসে এসেই বনে গিয়েছেন লোকসভা ভোটের প্রার্থী৷ উর্মিলা তাঁর জীবনের প্রথম লোকসভা ভোটের লড়াইটা লড়বেন মুম্বই নর্থ কেন্দ্র থেকে৷ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বিজেপির গোপাল শেট্টি৷ গত লোকসভা নির্বাচনে এই গোপাল শেট্টির কাছে হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের সঞ্জয় নিরূপম৷ তাই উর্মিলার কাছে লড়াইটা বেশ কঠিন৷ তবুও অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা ও গ্ল্যামারকে কাজে লাগিয়ে এই আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস৷ যদি উর্মিলা বিজেপির গোপাল শেট্টিকে হারিয়ে দিতে পারেন তাহলে তিনিও জায়েন্ট কিলারের তালিকায় ঢুকে পড়বেন৷

অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনীতিতে আসার ট্রেন্ড শুরু হয় আশির দশক থেকে৷ সেই সময় কংগ্রেসের ট্রাম্প কার্ড ছিল অমিতাভ বচ্চন, বৈজন্তীমালা ও সুনীল দত্তের মতো তারকারা৷ ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর ১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে এই তিন তারকা ভোটে দাঁড়ায়৷ এবং কংগ্রেসকে জয়ের স্বাদ এনে দেয়৷ যেমন এলাহাবাদ থেকে লোক দলের প্রবীণ রাজনীতিক ও উত্তরপ্রদেশের দু’বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমবতী নন্দন বহুগণাকে হারান অমিতাভ বচ্চন৷ এই হেমবতীকে দক্ষিণের একটি নিরাপদ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু বহুগুণা এলাহাবাদ থেকে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত ছিলেন৷ তবে ৮৪ সালে অমিতাভের কাছে হেরে যাওয়ার পর আর রাজনীতির ময়দানে তাঁকে দেখা যায়নি৷ ১৯৮৯ সালে আমেরিকায় তিনি মারা যান৷

১৯৮৪ সালে মাদ্রাস দক্ষিণের জনতা দলের প্রার্থী ইরার বিরুদ্ধে বলিউড সুপারস্টার বৈজন্তীমালা ছিল কংগ্রেসের তুরুপের তাস৷ হেভিওয়েট প্রার্থীকে তিনি হারিয়ে দেন৷ ওই বছরই বম্বে নর্থ-ওয়েস্ট কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাঁড়ান সুনীল দত্ত৷ নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়ানো দুঁদে আইনজীবী রাম জেঠমালানিকে বিপুল ভোটে তিনি হারিয়ে দেন৷ সুনীল দত্তের কাছে হেরে যাওয়ার পরেই জেঠমালানি বিজেপিতে যোগ দেন৷ ওদিকে অভিনয় জগত থেকে ধীরে ধীরে রাজনীতির জগতে নিজেকে মেলে ধরা শুরু করেন সুনীল দত্ত৷

এরপর নব্বইয়ের দশকে আরও কিছু অভিনেতা রাজনীতি জগতে পা রাখেন৷ তাদের মধ্যে উল্লেখ্য বিনোদ খান্নার নাম৷ ১৯৯৮ সালে বিজেপি প্রার্থী হয়ে পঞ্জাবের গুরদাসপুর কেন্দ্রের পাঁচবারের মহিলা সাংসদ হেভিওয়েট কংগ্রেস প্রার্থী এস কৌরকে হারিয়ে দেন৷ বিনোদ খান্না পেয়ে যান জায়ান্ট কিলারের তকমা৷ তার একবছর পর রাজ বব্বর ও কন্নড় সুপারস্টার শশী কুমার রাজনীতিতে নাম লেখান৷ সমাজবাদী পার্টি প্রার্থী হয়ে আগ্রা কেন্দ্র রাজ হারান তিনবারের সাংসদ ভগবান শঙ্কর রাওয়াতকে৷ অন্যদিকে কর্ণাটকের চিত্রাদূর্গার তিনবারের সাংসদ মুদালগ্রিয়াপ্পা হেরে যান জনতা দলের প্রার্থী শশীর কাছে৷

২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও এই ট্রেন্ড অব্যাহত৷ ২০০৪ সালে নর্থ মুম্বই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের হয়ে বাজিমাত করেন গোবিন্দা৷ বলিউডের ‘হিরো নম্বার ওয়ান’ হারিয়ে দেন পাঁচবারের বিজেপি সাংসদ রাম নায়েককে৷ এখন রাম নায়েক উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল৷ অতীতের সেই ফর্মুলাকে মাথায় রেখে উর্মিলাকে সামনে রেখে এই কেন্দ্র বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইছে কংগ্রেস৷ বলিউডের ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী প্রথমবার মথুরা থেকে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হন৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চরণ সিংয়ের নাতি জয়ন্ত চৌধুরীকে হারান তিনি৷

এবার যদি পশ্চিমবঙ্গে দিকে তাকানো যায় তাহলে সেই একই ছবি ধরা পড়বে৷ ২০১৪ সালে একঝাঁক টলি অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রার্থী করা হয়৷ যাদের মধ্যে ছিলেন বাংলার সুপারস্টার দেব, মুনমুন সেন, সন্ধ্যা রায় প্রমুখ৷ রাজনীতিতে আনকোরা সুচিত্রা কন্যা মুনমুন জীবনের প্রথম নির্বাচনে হারিয়ে দেন সিপিএমের ন’বারের সাংসদ বাসুদেব আচারিয়াকে৷ এবারও তৃণমূল নুসরত ও মিমির মতো অভিনেত্রীদের উপর আস্থা রেখে তাদের প্রার্থী করেছে৷

তালিকার ব্যতিক্রম নাম রাজেশ খান্না৷ বলিউডের একসময়ের সুপারস্টার ১৯৯১ সালে নিউদিল্লি কেন্দ্র থেকে বিজেপির লালকৃষ্ণ আদবানির কাছে হেরে যান৷ তবে দু’জনের ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম৷ রাজেশ খান্না মাত্র ১ হাজার ৫৮৯টি ভোটে হেরে যান৷ পরে অবশ্য উপনির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন৷

মতিহার বার্তা ডট কম ২৯ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *