শিরোনাম :
চিরবিদায় নিলেন গজ়ল শিল্পী পঙ্কজ উধাস বাঘায় ফেনসিডিল-সহ গ্রেফতার- ৩ রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সভাপতি লিয়াকত সম্পাদক অপু সিঙ্গাপুরের স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই তাড়িয়ে দেওয়া হয় কাজল-কন্যা নিসাকে! বচ্চনদের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না ঐশ্বর্যার, এ বার আরাধ্যাকে নিয়ে মুখ খুললেন নব্যা ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে হামলার তীব্রতা বাড়াল রাশিয়া, নিশানায় ওডেসা-সহ বিভিন্ন শহর ইজ়রায়েলের আচরণে ক্ষুব্ধ আমেরিকা গাজ়ায় যুদ্ধের প্রতিবাদ, ওয়াশিংটনের ই‌জ়রায়েলি দূতাবাসের সামনে গায়ে আগুন, আমেরিকার সেনার ‘ভারতীয় সেনাদের নিয়ে মিথ্যা বলছেন মুইজ্জু’! এ বার প্রাক্তন মন্ত্রীর তোপের মুখে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মাদক ব্যবসা : দেনাদারের বাসায় পাওনাদারের লাশ
পুঠিয়া জিউপাড়া ইউপি মেম্বারের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

পুঠিয়া জিউপাড়া ইউপি মেম্বারের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

পুঠিয়া প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ায় জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য (মেম্বার) জেসমিন আরা খাতুন ওরফে আলেয়া’র কান্ড। তিনি নিজে মেম্বার হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান ও সচিব এবং উপজেলার কিছু কর্মকর্তা সহযোগীতায় অনিয়মের মাধ্যমে নিজের পরিবার ও আত্নীয় স্বজনদের নামে ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসূচি, প্রতিবন্ধি, বয়স্কভাতা, বিধাবাভাতা ও ফেয়ার প্রাইজসহ বিভিন্ন রকম প্রায় ৩১ টি সুবিধা ভোগ করছে। কিন্তু প্রশাসন অজ্ঞাত করণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ৬ নং জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ এবং ৩ আসনের সদস্য (মেম্বার) জেসমিন আরা খাতুন আলেয়া অনিয়মের মাধ্যমে তার স্বামী সরিষাবাড়ী গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে কর্মসূচি তালিকা নং ১, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩৩১ এবং মেয়ে আলজান্নাতুল সুমি প্রতিবন্ধি তালিকা নং ৭৬।

তার ছোট বোন রেহেনা নামে ভিজিডি তালিকা নং ৭৩ ও ফেয়ার তালিকা নং ৩১০ এবং তার স্বামী সেলিম এর নামে কর্মসূচি তালিকা নং ১৯, ভিডিএফ এর তালিকা নং ৪৩০। তার ভাগ্নে আল-মারুফ এর নামে ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৪, ভিজিএফ তালিকা নং ৬২৬ এবং ভিজিডি তালিকা তার বৌ রত্না নং ৭১।

তার ভাই রবিউল এর নামে কর্মসূচী তালিকা নং ২২, ভিজিএফ তালিকা নং ৪৩৭ এবং তার স্ত্রী স্বর্ণা, পিতাঃ আঃ খালেক নাম দিয়ে ভিজিডি তালিকা নং ৭২। রবিউল এর ১ম স্ত্রী রুকসানা কর্মসূচী তালিকা নং ২০ এবং ভিজিএফ তালিকা নং ৪৪০। আরেক ভাই ইলিয়াস এর নামে কর্মসূচি তালিকা নং ৬, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৬ এবং তার ছেলে প্রতিবন্ধি- ইয়াসিন ১৮৯।

আরেক ভাই আসাদুল ওরফে মকলেছ এর বৌ পপি ভিজিএফ তালিকা নং ৪৫৯, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৭। তার ভাগ্নে মাজদান ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩০২ এবং তার স্ত্রী জরিনা ভিজিডি তালিকা নং ৭৮। ভাসুরের বৌ হনুফা ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৮ (তিনি ১ বছর পূর্বে মারাগেছে)। চাচাতো ভাই নাসির ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩০৬ এবং বোন নূরজাহান তালিকা নং ২৯৯।

অপরদিকে ফেয়ার প্রাইজ তালিকায় ৩০৮ ভাষান (মেম্বরের স্বামীর বোনের স্বামী), ৩১১ সৈয়দ (মেম্বরের স্বামীর বোনের স্বামী), ৩০৯ রমজান (ভাসুরের ছেলে), ৩১৩ রজব (ভাসুরের ছেলে) এবং ৩১৫ দেলবার ভাগ্নে (এলাকায় থাকেনা) এবং ভিজিএফ তালিকা নং ৪৩৫ সুবিধা ভোগ করে।

আরেকটি সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ সালে মেম্বার জেসমিন নিজে ভিজিডি তালিকায় সুবিধা ভোগ করেন। এছাড়া তার আত্নীয় স্বজন প্রতি অর্থ বছরেই নামে, বে-নামে সরকারের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে থাকেন।
সদস্য (মেম্বর) জেসমিন আরা আলেয়া’র ফোনে যোগযোগ করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার জানান, আমি নির্বাচনে জয়লাভের পর বিভিন্ন সময় আমি বাইরে ছিলাম তাই বিষয়গুলি আমার জানা নাই। আর মেম্বররা যাকে মনোনীত করে তার নামই তালিকায় দেওয়া হয়। তবে কেউ একাধিক থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহাবুবা সুলতানা জানান, ভিজিডি প্রকল্পের উপজেলার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তবে কেউ একাধিক সুবিধা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওলিউজ্জামান জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ে এক পরিবারের মাত্র একজন ব্যক্তি একটি মাত্র সুবিধার আওতায় থাকবে। কেউ একাধিক সুবিধা পাওয়ার নিয়ম নাই। আর তা যদি পেয়ে থাকে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মতিহার বার্তা ডট কম  ৩০ মার্চ ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply