রাজশাহীতে অপহৃত স্কুল ছাত্র উদ্ধার,অপহরণের অভিযোগে পলিটেকনিকের ৩ ছাত্র গ্রেফতার

রাজশাহীতে অপহৃত স্কুল ছাত্র উদ্ধার,অপহরণের অভিযোগে পলিটেকনিকের ৩ ছাত্র গ্রেফতার

এসএম বিশাল : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অপহৃত রোকনুজ্জামান রিজভীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে পাবনা সদর থানাধীন চাটমোহর শর্টকাট রোডের সবুজবাগ গাংকোলা মহল্লার আমিনুর রহমান খানের ২১২/১ নম্বর বাসার সবুজ ছাত্রাবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী মধ্যপাড়া এলাকায়। বাবার নাম হাফিজুর রহমান।

অপহৃত স্কুল ছাত্র  রোকনুজ্জামান রিজভী

একইসঙ্গে রিজভীকে অপহরণের অভিযোগে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তিন ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা নেওয়ার জন্য তাকে অপহরণ করেছিল।

রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নাটোরের লালপুর থানার চামটিয়া মোড় গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে সোহানুর রহমান সোহান, পাবনার সাথিয়া থানার হাড়িয়কাহন ডাংগাপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ছাব্বির হোসেন ছাব্বির ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাগসায়েস্তা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সুমন আলী সুমন। তারা সবাই পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। এ ঘটনায় জড়িত পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অপর দুই ছাত্র মেহেদী হাসান ও রাব্বি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী মধ্যপাড়া এলাকার মামুনের ছেলে শিতল পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারীদের একজন পলাতক শিতল স্কুল ছাত্র রোকনুজ্জামান রিজভীর বন্ধু। তাদের দু’জনের বাড়ি একই এলাকায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে শিতল কৌশলে তার বন্ধু রিজভীকে মামার বাড়ি পাবনায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রিজভীকে পাবনা সদর থানাধীন সবুজ ছাত্রাবাসে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক অপর আসামিদের হাতে তুলে দেয়।

এদিকে, সন্ধ্যা পার হলেও রিজভী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করেন। এরই এক পর্যায়ে ভিকটিম রিজভীর চাচা মোহাম্মদ আলীর মোবাইলে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। তারা জানায়, রিজভীকে জীবিত ফেরত পেতে চাইলে এক লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এরপর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে কথা মত বিকাশের মাধ্যমে প্রথমে সাত হাজার টাকা দেয়া হয়। আর বাকি টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

পুলিশ বিকাশে টাকা পাঠানোর সূত্র ধরে পাবনার ওই সবুজ ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে অপহৃত রিজভীকে উদ্ধার করে। একইসঙ্গে গ্রেফতার করে ওই তিনজন অপহরণকারীকে।

এছাড়া অপরহরণের সাথে জড়িত অপর তিনজন পালিয়ে যায়। ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা এক লাখ টাকা মুক্তিপণের জন্য স্কুল ছাত্র রিজভীকে অপহরণ করেছিল বলে স্বীকার করেছে।

থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

মতিহার বার্তা ডট কম ০৪ এপ্রিল ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply