শিরোনাম :
রাজশাহী শিরোইল কলোনীতে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) ফাতেহা পাঠ

রাজশাহী শিরোইল কলোনীতে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) ফাতেহা পাঠ

এস এম বিশাল: রাজশাহী নগরীর শিরোইল কলোনীতে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) ফাতেহা পাঠ করা হয়েছে। আজ শনিবার বাদ জোহর বিশ্বগোডাউন মোড়ে শিরোইল কলোনীর বড় জামে মসজিদের প্রেস ইমাম মাইনুল ইসলাম এ ফাতেহা পাঠ করান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক ও  হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) ওরস উদযাপন পরিষদের আহবায়ক কামাল হোসেন রবি, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওরস কমিটির অন্যতম সদস্য আশরাফ বাবু, রেল শ্রমিক লীগ নেতা জয়েদুল ইসলাম জয়েদ, নজরুল ইসলাম নজু,হারুন,মাস্তান,মানিক,গোলাপসহ আরো অনেকে।  ফাতেহা শেষে, এলাকার  ধনি-গরিব, বৃদ্ধ যুবক,শিশু ও এতিমসহ প্রায় এক হাজারের অধিক লোকজনের মাঝে খাবার বিতরন করা হয়।

শিরোইল কলোনীতে আজ হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) এর ৩৬তম ওরস মোবারক উপলক্ষে শনিবার ০৬ এপ্রিল বাদ আসর মিলাদ মাহফিল ও বাদ এশা কাওয়ালি অনুষ্ঠিত হবে এবং চলবে গভির বাত পর্যন্ত।

হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) সংক্ষিপ্ত জীবনি,

হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ:) বহু দেশ সফর করেছেন। সফর করার পূর্বে কঠোর ইবাদাত বন্দেগী এবং মুরাকাবা মুশাহাদা করেছিলেন। তিনি হজ্জ পালন করেন।

সফররত অবস্থায় হজরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ:) বহু পীর ওলীর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এমনকি স্বয়ং গাওসে পাক হজরত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ:)-এর সান্নিধ্য প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং ৫৭ দিন তার সাথে অবস্থান করেন। গাওছে পাক তাকে বলেছিলেন, ইরাকের বেলায়ত সাহাবুদ্দিন সরোওয়ার্দীকে দান করা হয়েছে, আর তোমাকে প্রদান করা হয়েছে হিন্দু স্থানের বেলায়ত। এই সংবাদ নিজ পীর খাজা ওসমান হারুনীর সাথে মদিনায় অবস্থান ও জিয়ারত কালে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পক্ষ থেকে পেয়েছিলেন।

হজরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ:) ৫৮৬ সালে মাত্র ৪০জন সফর সঙ্গীকে নিয়ে হিন্দুস্থানে আসেন। এরপর বিরতিহীনভাবে বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেন। তিনি আরব হতে ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান হয়ে প্রথমে লাহরে পরে দিল্লি হয়ে আজমিরে আগমন করেন।

আজমিরে পৌঁছালে সেই সময়ের হিন্দু রাজা পৃথ্বি রাজের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। পৃথ্বিরাজ খাজা মঈনুদ্দীনকে উৎখাত করার জন্য বিখ্যাত যাদুকর রামেদেওকে পাঠান, কিন্তু যাদুকর রামেদেও খাজার অত্যাধিক শক্তির কাছে নতস্বীকার হয়ে মুসলান হয়ে নাম রাখেন মোহাম্মদ সাতাফি।

হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ:) ছিলেন দরদি মনের মানুষ এবং চরিত্র ও তার আখলাক ছিল মহাশক্তি এবং অমোঘ অস্ত্র যেই কারণেই জাতী ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই তার সংশ্রবে এসে আকৃষ্ট হয়ে পড়ত এবং তাকে আন্তরিক ভক্তি ও শ্রদ্ধা করত।

হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ:) ৬৩৩ হিজরীর ৬ই রজব রবিবার পবিত্র আজমির শরীফে ইহধাম ত্যাগ করেন। তখন তার বয়স হয়েছিলেন ৯৭ বছর। গরীবে নেওয়াজের বড় সাহেবজাদা হজরত খাজা ফখরুদ্দিন চিশতী তার জানাজার ইমামতি করেন জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি হজরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার খাকী (রহ:) কে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করে সিলসিলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন।

মতিহার বার্তা ডট কম  ০৬ এপ্রিল  ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *