ঋণের বোঝা, জ্বালানি সংকট, দু’দিনের জন্য সমস্ত আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করল জেট

ঋণের বোঝা, জ্বালানি সংকট, দু’দিনের জন্য সমস্ত আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করল জেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  মিলছে না বকেয়া বেতন। ঋণভারে ধুঁকছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিমান পরিবহণ সংস্থা। একটার পর একটা বসে যাচ্ছে জেট এয়ারওয়েজের বিমান। বকেয়া মেটাতে না পারায় আগেই বসিয়ে দিতে হয়েছিল জেটের ৫৪টি বিমান। মঙ্গলবার একই কারণে আরও ১৫টি বিমান বসে গিয়েছিল। বুধবার দেখা গেল সব মিলিয়ে বিমান চলছে মাত্র ১৫টি।

ডিসেম্বর পর্যন্ত বাকি বেতনের ৮৭ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার পর পাইলটদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাভিয়েটার্স গিল্ডের (ন্যাগ) তরফে জানানো হয়েছিল, পাইলট ও ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পিছোনো হয়েছে। ততদিন ধৈর্য ধরে থাকবেন পাইলটরা। তবে বুধবান জেট এয়ারওয়েজের চালু বিমানের সংখ্যা দেখে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।

সংস্থা সূত্রে খবর, ১,৬০০ জন পাইলটের মধ্যে ১,১০০ জন ন্যাগের সদস্য। তাঁরা আচমকা বসে গেলে, বাকিদের দিয়ে কিছু দিন কাজ চালানো হয়তো সম্ভব। বিশেষত বর্তমানে ১২৪টি বিমানের মাত্র ১৫টি চালু। ফলে সীমিত সংখ্যক বিমান চালাতে বাকিরা যথেষ্ট। কিন্তু, এ ভাবে বেশি দিন চালানো সম্ভব নয়। কারণ কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত পিছোলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে চলে গেছেন ন্যাগের বেশিরভাগ পাইলটই।

এই মুহূর্তে বাজারে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার দেনা জেট এয়ারওেজের। সংস্থার পুনর্গঠনের জন্য দরকার ৯,৫৩৫ কোটি টাকা। গত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সংস্থার পাইলট ও ইঞ্জিনিয়াররা। ঋণের কিস্তি মেটাতে না পারা, নগদের সমস্যা, কর্মীদের বকেয়া— এই দুর্দশা মেটানোর জন্য স্টেট ব্যাঙ্কের নেতৃত্বাধীন ঋণদাতাদের গোষ্ঠী (এসবিআই, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইলাহাবাদ ব্যাঙ্ক)-র সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলেন সংস্থার কর্তৃপক্ষেরা।

সম্প্রতি জেটে ১,৫০০ কোটি টাকা ঢালার কথা জানিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক বলেছিল, দ্রুত নতুন লগ্নিকারী খোঁজাই লক্ষ্য। সব কিছু দেখাশোনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নজরদারি কমিটি তৈরির কথাও জানানো হয়েছিল ব্যাঙ্কের তরফে। সূত্রের খবর, স্টেট ব্যাঙ্কের নেতৃত্বাধীন ঋণদাতাদের গোষ্ঠী নাকি ১৫০০ কোটি টাকা নতুন ঋণও দিয়েছে জেট সংস্থাকে। স্টেট ব্যাঙ্কেরই প্রাক্তন প্রধান এ কে পুরওয়ারকে জেটে অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালন কমিটির চেয়ারম্যান পদে বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

জেটের বর্তমান সিইও বিনয় দুবের ঘাড়েই জেটকে এই সঙ্কট থেকে বার করার বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়েছে বোর্ড। সূত্রের খবর, এসবিআইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং জেট এয়ারওয়েজ বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য শ্রীনিবাস বিশ্বনাথনকে সংস্থার বড় পদে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে সংস্থার তরফ থেকে। বোর্ডের সদস্য হতে পারেন এসবিআইয়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন সিভিসি কমিশনার জানকী বল্লভও।

মতিহার বার্তা ডট কম ১১ এপ্রিল ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *