কৃষিতে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে আমনের বাম্পার ফলন

কৃষিতে সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে আমনের বাম্পার ফলন

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : আমনের বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও গৃহিনীর মুখে তৃপ্তির হাসি। কৃষকের গোলা ভরে যাচ্ছে সোনালী নতুন ধানে। কৃষিতে সরকারের ধারাবাহিক নানা উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে এই সাফল্য আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টন বেশি। খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যে কৃষক যেনো ন্যায্য দাম পান সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টিও মাথায় রয়েছে কৃষি কর্মকর্তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানিয়েছে, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমন চাষের জমির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও। আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে আমন রোপণের সময়ই বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। বাস্তবের চিত্রটাও তাই। বাম্পার ফলনের চেয়েও যেনো বেশি কিছু! কৃষি সম্প্রসারণের সরেজমিন উইং জানিয়েছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ লাখ টন ফলন বেশি হয়েছে আমনে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আমাদের এ বছর আমনে উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যের চেয়ে ১৩ লাখ টন বেশি। আমাদের এখন পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে ভাবতে হবে। কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জানান, আমাদের উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এখন আমরা আরও বেশি উৎপাদন করতে পারছি আমাদের নানা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিভিন্ন জাতের কারণে। সেই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগাযোগও একটা কারণ।

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতি বছর আমনের উৎপাদন বাড়ছে। ২০১৭ সালে আমনের উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছায়। সেইসময় বন্যায় ফসল ভাসলেও ঘুরে দাঁড়ান কৃষকরা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫৭ হাজার টন। উৎপাদনের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে নতুন নতুন উদ্ভাবিত জাত, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারের সঠিক নীতি। কৃষকের স্বার্থ খেয়াল রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল। এর আগের বার ২০১৬-১৭ বছর ৫৬ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার টন আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কৃষিখাতের মতোই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে সকল খাতে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে এক অনন্য মাত্রায়, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

মতিহার বার্তা ডট কম- ১৭ এপ্রিল ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *