শিরোনাম :
রাজশাহীতে বালু মজুদ করতে ১০ একর জমির কাঁচা ধান সাবাড় বিশ্বের দীর্ঘতম গাড়িতে রয়েছে সুইমিং পুল, হেলিপ্যাডও ছুটির দিনে হেঁশেলে খুব বেশি সময় কাটাতে চান না? রবিবারে পেটপুজো হোক তেহারি দিয়েই দাম দিয়ে ছেঁড়া, রংচটা জিন্‌স কিনবেন কেন? উপায় জানা থাকলে নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন উন্মুক্ত বক্ষখাঁজ, খোলামেলা পিঠ, ভূমির মতো ব্লাউজ় পরেই ভিড়ের মাঝে নজরে আসতে পারেন আপনিও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য বাড়িতেই স্ক্রাব তৈরি করে ফেলতে পারেন, কিন্তু কতটা চালের গুঁড়ো দেবেন? গরমে শরীর তো ঠান্ডা করবেই সঙ্গে ত্বকেরও যত্ন নেবে বেলের পানা, কী ভাবে বানাবেন? গাজ়া এবং ইরানে হামলা চালাতে ইজ়রায়েলকে ফের ৮ হাজার কোটি টাকার অস্ত্রসাহায্য আমেরিকার! ইজ়রায়েলকে জবাব দিতে সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়ার কথাও ভুলতে চায় ইরান, এ বার কি পরমাণু যুদ্ধ? দিনাজপুরে ড্রাম ট্রাকসহ ১০০ কেজি গাঁজা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশ

মতিহার বার্তা ডেস্ক : হাজার বছর ধরে নানা জাতি-ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের সুমহান ঐতিহ্য। বাংলাদেশের পরিচিতি মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে। এ দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্মে নিষ্ঠাবান হওয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে তারা অনুকরণীয় আদর্শ বলে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের মানুষ ধার্মিক বলেই ভিন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীলতার আদর্শ এ দেশে মূর্তমান।

হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের বিশ্বাসী মানুষের বসবাস এদেশে। বাঙালি, মণিপুরি, চাকমা, মারমা প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীতে বিভক্ত এদেশের সব অধিবাসী একক পরিচয়ে বাংলাদেশি। বাঙালি বাংলাদেশের প্রধান সংস্কৃতি হলেও এ দেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ ও প্রীতিময় করেছে সাঁওতাল-চাকমা, হাজং-ত্রিপুরাসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।

সাংস্কৃতিক এ সম্প্রীতির কারণে এদেশে খ্রিস্টানদের বড় দিন, বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন, হিন্দুদের পূজা পালন এবং মুসলমানদের ঈদ উদযাপনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য এসব দিনগুলোতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এক সঙ্গে উদযাপনের অনেক উদাহরণ আছে। হিন্দুদের পূজার অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান, মুসলমান ও বৌদ্ধদের এবং মুসলমানদের ঈদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরও দাওয়াত দেয়ার রীতি আছে। প্রধান চারটি ধর্মের প্রধান উৎসবের দিন আনন্দে মেতে ওঠে পুরো গণভবন ও বঙ্গভবন এলাকা। একদিক দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎসবের দিন মতবিনিময় করেন সবার সাথে। এতে উপস্থিত থাকেন সাধারণ মানুষজন। অপরদিকে একইভাবে মতবিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শুধুমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় শুধুমাত্র তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তাই নয়, চার ধর্মের প্রধান উৎসবের দিন সকলের সাথে মতবিনিময় করেন তারা।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ তার প্রমাণ রয়েছে অগণিত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দেখা যায় মণ্ডপে হিন্দুদের তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা বেশি। কারণ তারা প্রত্যেকেই এসেছেন পূজা উপভোগ করতে। বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমায় সবার সাথে একাত্মতা জানাতে সব ধর্মের লোকজনই একসাথে একত্রিত হয়। সেই সাথে খ্রিস্টানদের বড়দিনেও দেশের বিভিন্ন গির্জায় দেখা যায় অন্যান্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতি। বাংলাদেশই এমন একটি দেশ, যেখানে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোক সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও অন্যান্য ধর্মের লোকজন সমানতালে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে।

এমনকি হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-মুসলমানের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পারস্পরিক সহযোগিতার খবরও নতুন নয়। বিয়ে, মেলা, নবান্নসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সকল ধর্মাবলম্বীদের পারস্পরিক অংশগ্রহণ বহুল প্রচলিত। এমনভাবে বাংলাদেশের সামাজিকতার বিভিন্ন পর্যায়ে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত।

ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিন্নতা সত্ত্বেও বাঙালি হিন্দু-মুসলিমের সংস্কৃতি অনেকাংশে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাদের সামাজিক বন্ধনও হৃদ্যতাপূর্ণ। হিন্দু-মুসলিমের মিলিত সংস্কৃতিই বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এখানে যেমন আজানের ধ্বনিতে মানুষের ঘুম ভাঙে তেমনি সূর্যাস্তের সময় শঙ্খধ্বনিও বেজে ওঠে। এদেশের বোরকা পরিহিতা মুসলিম আর সিঁদুর পরা হিন্দু নারীরা একসঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দেন কিন্তু তারা ধর্মীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন না। আবার ধুতি-তিলক পরা হিন্দু পুরোহিতেরা পাজামা-পাঞ্জাবি-টুপি পরা দাড়িওয়ালা মৌলবিদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করলেও তাদের মধ্যে ধর্মীয় কোনো বিরোধ হয় না। তাছাড়া আসর বসিয়ে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বাউল-কীর্তন, মুর্শিদি-মারফতি গান শোনে। ধর্মীয় কিছু বিধি-নিষেধ ছাড়া মৌলিক কোনো পার্থক্য নাই বাঙালি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাসে। এমনিভাবে বাঙালি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয়ে।

বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উপেক্ষিত নয় এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি অনেক পুরনো। মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশের হিন্দু সাহিত্যিকরা দেব-দেবীর স্তুতিমূলক সাহিত্য রচনা করেছেন। শ্রীকৃষ্ণ বিজয়, রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি হিন্দু ধর্মগ্রন্থাদি বাংলায় অনূদিত হয়েছে মুসলিম সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায়। মুসলিম শাসনামলে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বরাবরের মতো বয়ে চলছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। যা একটিবারেরও মতো বিচ্যুতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে চলছে দেশ। সেই সাথে সব ধর্মের মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মতিহার বার্তা ডট কম – এপ্রিল, ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply