রাজশাহীতে রাত ১২ টার পর থানায় ঢুকা নিষেধ, বল্লেন মতিহার থানার ওসি

রাজশাহীতে রাত ১২ টার পর থানায় ঢুকা নিষেধ, বল্লেন মতিহার থানার ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে সাংবাদিককে থানায় ঢুকতে নিষেধ করলেন মতিহার থানার ওসি । আজ রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ১১ মিনিটে টুটুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক করা হয়েছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও রাজশাহীর সময় ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টালের  চিফ রিপোর্টার সাংবাদিক ইফতেখার আলম বিশাল নগরীর মতিহার থানায় যান।

এ সময় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান ডিইটিতে থাকা কন্সটেবলকে ধমক দিয়ে ডেকে বলেন, রাত ১২টার পরে থানায় কাউকে ঢুকতে দেবেন না।

এরপর ডিউটি অফিসারের রুমে থাকা সাংবাদিক বিশালকে কন্সটেবলের মাধ্যমে ডেকে বলেন, রাত ১২টার পর থানায় ঢুকা নিষেধ।

টুটুলের মা জোৎনা বেগম বলেন , আমার ছেলের নিকট কোন প্রকার মাদকদ্রব্য পায়নি পুলিশ। তারপরও ধরে নিয়ে এসে সন্ধা থেকে ভোগান্তি হুমকি আর হয়রানীর মধ্য দিয়েই রাত প্রায় দুইটা বেজে গেল।

সাংবাদিক বিশাল বলেন,  বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী থানায় আটক হয়েছে এমন সংবাদ শুনে মতিহার থানায় যাই। থানায় গিয়ে জানলাম তাকে তুলে নিয়ে এসেছে সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, রাত ১২টার পরে থানায় প্রবেশ করা যাবেনা এমন আইন আরএমপিতে চালু থাকলে অবশ্যই রাত ১২টার পর অপমান হতে থানায় যেতাম না। তাছাড়া বিষয়টি আমারও জানা নেই।

এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার(সদর) মোঃ গোলাম রুহুল কুদ্দুস এর মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেননি।

পরে বিষয়টি জানতে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন (পিপিএম)কে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানা সবার জন্য উম্মুক্ত।  তাছাড়া থানায় প্রবেশ নিষেধ কথাটি পৃথিবীর কোন ওসি  বলতে পারেন না।

তবে হাঁ কেউ যদি কথায় কথায় মানুষের বিরুদ্ধে মামলা বা জিডি করে হয়রানী করে, এবং আয়রোজগার করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করে প্রমান করতে হবে সে একজন খারাপ মানুষ।

তারপর জেলা প্রশাসক যদি উক্ত ব্যক্তিকে (লুনাটিক) অর্থ উম্মাদ, বুদ্ধিহীন, এক কথায় পাগল। ডিক্লিয়ার করেন। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকেই থানায় প্রবেশ করতে দেয়া যাবেনা। কিন্ত আমার জানা মতে এটি একটি বিরল ঘটনা । যাহা বাংলাদেশে কোথাও  ঘটেছে বলে আমার জানা নাই।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে মতিহারের বেঁদে পাড়া, বাঁদুড় তলা, বালু ঘাটসহ এ এলাকায় প্রায় ২১টি মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম সোহেল ড্রাইভার, অঞ্জু,সহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ীরা চুটিয়ে চালাচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজার ব্যবসা। পাশাপাশি বালু ঘাটের নিচে চলছে সারারাত জুয়ার কারবার। থানায় অবগত করলে দারগা বাবু, ওসি সাহেব বলেন ধরিয়ে দিন। তাছাড়া তাদের মাদক ব্যবসায়ী ধরতে আগ্রহ দেখাও যায়না।

এরপর রয়েছে জাহাটঘাট, মবব্বতের ঘাট, সাতবাড়িয়া, ডাসমারী ফিল্ড, ডাসমারী, বটতলা, অবদা ঘাট, মিজানের মোড়, এ সকল এলাকাগুলোতে হাত বাড়ালেই মেলে সকল প্রকার মাদক। এবং চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সমস্যা নাই। তারা নাকি নিয়মিত কর প্রদান করে থাকেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই এলাকার নিরিহ বাসিন্দারা।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৯ এপ্রিল ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply