নগরীতে সাবেক কাউন্সিলরের জমি দখল করে বস্তি তৈরীর অভিযোগ ফটো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে

নগরীতে সাবেক কাউন্সিলরের জমি দখল করে বস্তি তৈরীর অভিযোগ ফটো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে

নগরীতে সাবেক কাউন্সিলরের জমি দখল করে বস্তি তৈরীর অভিযোগ ফটো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে
নগরীতে সাবেক কাউন্সিলরের জমি দখল করে বস্তি তৈরীর অভিযোগ ফটো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় সাবেক কাউন্সিলরের জমি দখল করে বস্তি তৈরীর অভিযোগ উঠেছে ফটো-সাংবাদিক মোঃ আজাহার উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি ওই এলাকার মৃত আনোয়ার হেসেনের ছেলে।

অপর দিকে ভূক্তভোগী (রাসিক) সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ইকবাল হোসেন দিলদার একই থানার ফুদকি পাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে।

তিনি জানান, নগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগর পাড়া এলাকায় ক্রয়কৃত জমির পরিমান .২২৯৩। সেই জমি দেখাশোনার জন্য ফটো সাংবাদিক আজাহার উদ্দিনকে থাকতে দেয়া হয়েছিলো। এখন তার লোভ পেয়েছে। সমঝোতার জন্য কখনো ২৫ লাখ আবার কখনো ৩০ লাখ টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে চাইছেন। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার জমির দখল ছাড়তে চাইছেন না। অথচো তার কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। এবং বারবার সমঝোতায় বসে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত (১৯ মার্চ) নিজ জমিতে সিমানা প্রাচীর নির্মান করতে গেলে দ্বন্দে জড়ায় ফটো সাংবাদিক আজাহার উদ্দিন তার ভাই ও তাদের ভাড়াটিয়া গুন্ডবাহিনী। এর পরেরর দিন একই কারনে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

এর আগে, ভুক্তভোগী দিলদার বিষয়টি সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তির জন্য গত (২৪ আগস্ট ২০২২) রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবার একটি আবেদন করেন।

এরপর রাসিকের পক্ষ থেকে সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য (সালিশ) ৪সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন রাসিক মেয়র এবং সৃষ্ট বিরোধ সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশের প্রেক্ষিতে কমিটি আহবায়ক সকল সদস্যদের সাথে পরামর্শক্রমে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে গত (১২ সেপ্টেম্বর ২০২২) আলোচনা ও পক্ষগণের নিকট থেকে নালিশী জমির মালিকানা সংক্লান্ত কাগজপত্র জমা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী তার মালিকানা জমির কাগজপত্র কমিটি’র নিকট জমা দিলেও প্রতিপক্ষ আজাহারগণ ১৯৫৩ সালে রেজিষ্ট্রীকৃত ১৮০৮ নং একটি দলিলের ফটোকপি জমা দেন। এরপর ১০ জানুয়ারী ১৯৭৪ সালে রেজিষ্ট্রী অফিস রাজশাহী কর্তৃক একটি প্রত্যায়ন পত্র দাখিল করেন। দখিলকৃত প্রত্যায়ন পত্রের প্রেক্ষিতে ভূক্তভোগী গত (৩ জানুয়ারী ২০২২) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদর রেকর্ড রুম, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, রাজশাহী স্বাক্ষরিত ১৯৭৪ সালের-৭৫০নং দলিল এর নকল ও জাবেদা কপি উত্তলোন করে সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি (সালিশ) কমিটির অবগতির জন্য দাখিল করেন।

ভূক্তভোগীদের ধারাবাহিক কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় , নালিনী জমির প্রকৃত মালিক সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ইকবাল হোসেন দিলদার। তাই প্রতিপক্ষগণকে নালিশ সম্পত্তি থেকে সরে/সরিয়া যাওয়ার জন্য সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি (সালিশ) কমিটির আহবায়ক ও সদস্যগণ অনুরোধ করছেন।

কমিটির আহবায়ক ও সদস্যগণ উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ আজাহার উদ্দিনগণ নালিশী সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কোন প্রকার তথ্য প্রদান করতে পারেন নাই। কিন্তু জোর পূর্বক বস্তি বাড়ী তৈরি করে বসবাস করেছেন।

এ ব্যপারে ভুক্তভোগী দিলদার প্রতিকার চেয়ে অবগতির জন্য একটি আবেদন করেন। যাহার অনুলিপি প্রেরণ করেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, পুলিশ কমিশনার আর.এম.পি. রাজশাহী, অফিসার ইনচার্জ, বোয়ালিয়া মডেল থানা, রাজপাড়া থানা, শাহমখদুম থানা, মতিহার থানা ও চন্দ্রিমা থানায় আরএমপি, রাজশাহী।

ভুক্তভোগী সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন দিলদার আরও বলেন, নিজ জমিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালাতে গেলে অসাধু ব্যক্তি ফটো সাংবাদিক আজাহার উদ্দিনগণ ও তার ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহীনি আমার লোকজনের উপর অর্তর্কীত হামলা চালায় এবং আমার ব্যপক ক্ষতি সাধন করেন। আবার প্রভাব খাটিয়ে আমার এবং আমার লোকজনের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে।

ফটোসাংবাদিক আজাহার উদ্দিনের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিহারিদের সম্পত্তিতে বসবাস করছেন। তারা ওই জমি বিহারিদের কাছ থেকে কিনেছেন। কিন্তু ওই সম্পত্তি দখলের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন মৃত মজিবর রহমানের ছেলে ইকবাল হোসেন দিলদার ও তার ঘনিষ্ট বন্ধু মৃত কোরবার আলীর ছেলে নুরু। ভুয়া দলিল করে ১৯৭১ সাল থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন দিলদারের বাবা মৃত মজিবর রহমান। বর্তমান কিছু সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করছেন তার ছেলে দিলদার ও কোরবান আলীর ছেলে নুরু।

এদিকে, ভুক্তভোগী দিলদারের দাবি, পূর্বে এই জমি নিয়ে আজাহারগণের সাথে একাধিক বার অনুষ্ঠানিক ভাবে সমঝোতায় বসেছেন তিনি। কিন্তু প্রতিপক্ষ আজাহার উদ্দিন প্রথমে ৩০ লাখ পরে ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। ফলে বৈধ ও আইনি প্রক্রিয়ায় সমঝোতায় পথ বেছে নেই। এই প্রক্রিয়ায় সমঝোতা করলে টাকা পাবে না দেখেই আজাহারগণ দ্বন্দে জড়িয়েছেন বলেও জানান জমির প্রকৃত মালিক দিলদার।

এ ব্যাপরে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply