শিরোনাম :
আরএমপি পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত চারঘাটে গাঁজা- সহ ২জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৯ রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বসছে এক লাখ ৩৮ হাজার ১৫৭ শিক্ষার্থী রাজশাহীতে জমেছে পশুহাট, লাখের নিচে মিলছে না কোরবানিযোগ্য গরু দ্রুত সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে রাসিকের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রোদে পোড়া কালচে ত্বক নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন? ঘরোয়া টোটকা দিচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া তেল বেশি গরম করলে কি খাদ্যগুণ চলে যায়? কী বলছেন পুষ্টিবিদ‌রা? বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ধাক্কা পাকিস্তানে, চোটে বাদ অবসর ভেঙে ফেরা ক্রিকেটার সিঙ্গাপুর, হংকংয়ের পর এ বার ভারতের মশলা নিষিদ্ধ করল পড়শি ‘বন্ধু’ দেশ
রিয়ালকে হারিয়ে ইস্তানবুলে ইউরোপের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি ইন্টার মিলান ও ম্যান সিটি

রিয়ালকে হারিয়ে ইস্তানবুলে ইউরোপের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি ইন্টার মিলান ও ম্যান সিটি

রিয়ালকে হারিয়ে ইস্তানবুলে ইউরোপের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি ইন্টার মিলান ও ম্যান সিটি
রিয়ালকে হারিয়ে ইস্তানবুলে ইউরোপের মহাযুদ্ধে মুখোমুখি ইন্টার মিলান ও ম্যান সিটি

মিজানুর রহমান টনি: ‘রিয়াল’ মাদ্রিদ নামের ‘রিয়াল’ শব্দটা আসলে স্পেনীয় ভাষায় ‘রয়্যাল’—অর্থাৎ রাজকীয়। ১৯২০ সালে স্পেনের তৎকালীন রাজা ত্রয়োদশ আলফোনসো এক সনদে এই ক্লাবকে ‘রাজকীয়’ উপাধি প্রদান করেন। তারপর থেকেই ‘মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাব’ থেকে নাম পালটে হয় ‘রিয়াল মাদ্রিদ’। গত দশ বছরে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার রেকর্ড দেখলে মনে হবে, এর থেকে বেশি রাজকীয় কিছু তো হতেই পারে না। দশ বছরে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল— তিনবার জিনেদিন জিদানের আমলে, একবার কার্লো আন্সেলোত্তির কোচিং-এ।

গতকালের ম্যাচ যেন শুরু থেকেই ছিল মগজাস্ত্রের যুদ্ধ। একদিকে কার্লো আন্সেলোত্তি। একমাত্র কোচ, যিনি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ট্রফিটি জিতেছেন চারবার। দুইবার এসি মিলানের হয়ে, দুইবার রিয়ালের হয়ে। অন্যদিকে পেপ গুয়ার্দিওলা। আন্সেলোত্তি যদি ফুটবলে শেক্সপীয়র হ’ন, গুয়ার্দিওলা নিঃসন্দেহে বোদলেয়র। জাভি-ইনিয়েস্তা ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে কার্যত একুশ শতকের ফুটবল দর্শনটাকেই নতুন করে লিখেছেন তিনি। সবচেয়ে কমবয়সী ম্যানেজার হিসেবে বার্সেলোনাকে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছেন।

আগের লেগে ১-১ ড্র করে প্রতিযোগিতা এমনিতেই চরমে তুলে দিয়েছিল দুই ক্লাব। কিন্তু বুধবার রাতে এতিহাদ স্টেডিয়ামের দুর্গে দাঁত ফোটাতেই পারল না স্পেনীয় আর্মাডা। গত পাঁচ বছরে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি একবারের জন্যও নিজেদের ঘরের মাঠে হারেনি। ২৫ টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচের ২৩-টিতেই জিতেছে, দুটো ড্র করেছে। এই বছর এখনও অবধি খেলা ১৪-টি ম্যাচের সবক’টিতেই এতিহাদে জিতেছে তারা।

কোনও ঝুঁকিতে যাননি আন্সেলোত্তি। ধ্রুপদী ৪-৩-৩ ছকেই সাজিয়েছিলেন। নামিয়েছিলেন বেঞ্জেমা, কার্ভাহাল, ক্রুস, মড্রিচ, ভিনি-সহ পুরো শক্তির দলকে। রক্ষণে আস্থা ছিল উদীয়মান ফরাসি তারকা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ওপরে। জবাবে সিটির অস্ত্র ছিল ৩-২-৪-১ ছক। গ্রেলিশ-গুন্দোহান-বার্নার্দো সিলভা-কেভিন দে ব্রুইনের পিছনে রদ্রি আর সামনে একা আর্লিং হালান্ড।

বার্নার্দো সিলভাকে থামানোর দায়িত্ব ছিল কামাভিঙ্গার ওপরে। কিন্তু কার্যত নাস্তানাবুদ করে দেন পর্তুগিজ তারকা। ১২ মিনিটেই রিয়াল বক্সের বাঁ দিক থেকে গ্রেলিশের পায়ের ছোট্ট টোকায় বল একেবারে গিয়ে পড়ে জালের সামনে। ২০ মিনিটের মাথায় আবার হালান্ডের নিশ্চিত গোল কোনওমতে বাঁচান কুর্তোয়া। ততক্ষণে ঘরের মাঠে কার্যত গর্জন করছেন সিটি সমর্থকরা। ২২ মিনিটের মাথায় আর রোখা গেল না। বার্নার্দো সিলভার বাঁ পায়ের শট সোজা জড়িয়ে গেল রিয়ালের জালে। ৩৬ মিনিটের মাথায় আবার হেড থেকে দ্বিতীয় গোল করে যান সিলভা। গুয়ার্দিওলা ততক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

বস্তুত তারপর আর সিটি আক্রমণকে আটকানো যায়নি। রিয়ালের তরফে চেষ্টা চলেছিল। টোনি ক্রুজের একখানা ডান পায়ের ক্রুজ মিসাইল পোস্টে লেগে ফিরে যায়। কিন্তু একের পর এক সাঁড়াশি আক্রমণে প্রায় অসহায় হয়ে পড়ে রিয়াল ডিফেন্স। পালটা চালে ক্রুজকে তুলে আসেনসিওকে নামান আন্সেলোত্তি। লাভ হয়নি। ৭৬ মিনিটে কার্যত রদ্রির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ায় সিটি।

বহু রিয়াল সমর্থক এসেছিলেন ম্যাঞ্চেস্টারে। আন্সেলোত্তির সামনেও ছিল নতুন রেকর্ড। এই নিয়ে ১৯১-তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলালেন আন্সেলোত্তি। এর আগে এই রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। খেলিয়েছিলেন ১৯০-টি ম্যাচ। গুয়ার্দিওলাকেও এর আগে তিনবার হারিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোটা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসেই সবচেয়ে সফলতম দলের নাম রিয়াল। মোট ১৪ বার বিজয়ী হয়েছে তারা।

কিন্তু এতিহাদ স্টেডিয়ামের নীল সাদা দুর্গে কোনও প্যাঁচই কাজে এল না ইতালীয় কিংবদন্তির। ২০০৮ সাল থেকেই ম্যাঞ্চেস্টারের খোলনলচে বদলে ফেলেছেন তাদের নতুন আরব আমীরশাহীর কর্তারা। বিপুল টাকা বিনিয়োগ করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাকে নিয়ে এসেছেন দলে। ঢেলে সাজিয়েছেন পরিকাঠামো। ম্যানেজারের দায়িত্বে এসেছেন পেপ। তারপর থেকে সিটির অশ্বমেধের ঘোড়া কার্যত অপ্রতিরোধ্য। অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিদায়ে টালমাটাল তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশ ফুটবলের নক্ষত্রপ্রতিম ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে সরিয়ে কেন্দ্রে চলে এসেছে সিটি।

শেষ হাসি আরও চওড়া করেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে দুই গোল মারা বাইশ বছরের আলভারেজ শেষে অতিরিক্ত সময়ে চোখধাঁধানো চতুর্থ গোলটি করে যান।

ম্যাঞ্চেস্টার থেকে এবার ইস্তানবুলের বিমান ধরবে পেপ গুয়ার্দিওলার দল। ফাইনালে তাদের মুখোমুখি ইন্টার মিলান। সিমোন ইনজাগির বিরুদ্ধে বসফোরাস-কৃষ্ণ সাগরের তীরে তারা ব্রিটিশ জয়পতাকা উড়িয়ে আসতে পারে কিনা, অপেক্ষা ভক্তরা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply