দালাল মুক্ত করতে কঠোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

দালাল মুক্ত করতে কঠোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

দালাল মুক্ত করতে কঠোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
দালাল মুক্ত করতে কঠোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালাল মুক্ত করতে এবার কঠোর ভূমিকা পালন করছেন চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে গত রোববার দুপুরে নামমাত্র ক্লিনিকের এক দালালকে থাপ্পর দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাটি ঈশ্বরদীতে প্রশংসনীয় হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সপ্তাহে দুদিন নির্ধারিত সময় ছাড়া হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ঘুরাঘুরি না করা, হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারী এম্বুল্যান্সসহ প্রাইভেট কার রেখে পরিবেশ বিনষ্ট না করার জন্য কঠোর ভাবে নির্দেশ প্রদান করে নোটিশ লাগানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ভিজিট, ক্লিনিকের দালালদের অবস্থা ও যানবাহন রাখা বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনেরও হুশিয়ারি নোটিশে প্রদান করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) দুপুরে মুঠোফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক এফ এ আসমা খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ঈশ্বরদীর কয়েকটি নামমাত্র ক্লিনিকের নিয়োগকৃত দালাল সারাদিন হাসপাতালে ঘুরাঘুরি করে। গ্রাম থেকে কোন রোগী হাসপাতালে আসলেই এসব দালালরা রোগীর অভিভাবকদের সহজ সরলতার সুযোগ নিয়ে ওনসব ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এতে টাকা খরচ হলেও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আবার ক্লিনিকে রেখে প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে সেই রোগীকেই পূনরায় হাসপাতালে ফেরত পাঠায়। এসব কারণে হাসপাতালে আসার রোগীদের সঠিক সময়ে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতাল প্রশাসন দালালদের সতর্ক করে নোটিশ ঝুলিয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। এবার হাসপাতাল প্রশাসন কঠোর হয়েছে। যেকোনভাবে হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহন করছে। এমনকি গত েেরাববার দুপুরে শরিফ নামের এক দালালকে হাসপাতালে আসা এক নারী রোগীকে প্রলোভন দিয়ে ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দেখে বারবার নিষেধ করা হলেও কথা না শোনায় অবশেষে তাকে থাপ্পর মেরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নানা সমস্যায় জর্জরিত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। এরপর দালালদের উৎপাত। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়ে বিড়ম্বনা। হাসপাতাল অভ্যন্তরে যত্রতত্র বেসরকারী এম্বুল্যান্স, প্রাইভেট কার রাখা। সব কিছু মিলে পরিবেশটা একেবারেই নিয়ন্ত্রণহীন। এরই মধ্যে চোখে পড়ে কিছু ক্লিনিকের নিয়োগকৃত দালাল শরিফ, মতিন, পাপ্পুসহ বেশ কয়েকজন হাসপাতালে সারাদিন ধরে ঘুরাঘুরির করে। রোগীদের নানারকম ভূল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন রোববার দুপুরে জরুরী বিভাগে সেবা নিতে আসা এক রোগীকে প্রলোভন দেখি দালাল শরিফ ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিকুল ইসলাম শামীমকে জানানো হয়। ডাক্তার শামীম ঘটনাস্থলে এসে শরিফকে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু শরিফ কথা না শুনলে তাকে থাপ্পর মেরে বের করে দেন।

এ ব্যাপারে (আরএমও) ডাক্তার শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত দিনের সময় ছাড়া হাসপাতালে আসা রোধ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বেসরকারী এম্বুল্যান্স, প্রাইভেট কার রাখা হয়। ফলে রোগি নিয়ে আসা গাড়িগুলোর খুবই সমস্যা হয়। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবেশ ফেরাতে এসব পদকক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এ আসমা খান বলেন, নোটিশ দিয়েও দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করা যাচ্ছিল না। রোববারে এক দালালকে থাপ্পর মেরে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনার পর থেকে দালালদের দেখা যাচ্ছে না। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও গাড়ির ক্ষেত্রেও সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। তবে ভাল কাজ করতে গিয়ে এক দালালকে থাপ্পর মারা ঘটনাটিকে একটি চক্র ভিন্নখাতে নেওয়া চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন এই চিকিৎসক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply