শিরোনাম :
রাজশাহী নগরীতে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা আজাদ শ্যামলী দম্পত্তীর কাজ!

রাজশাহী নগরীতে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা আজাদ শ্যামলী দম্পত্তীর কাজ!

রাজশাহী নগরীতে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা তাদের কাজ!
রাজশাহী নগরীতে পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা তাদের কাজ!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে মহানগরীতে ভুয়া অফিস খুলে সরকারী চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কেটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ আজাদ (৪৮) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মোসাঃ নাহিদা আক্তার অরফে শ্যামলীর (৪২) বিরুদ্ধে।

প্রতারক মোসাঃ নাহিদা আক্তার অরফে শ্যামলী, তিনি মহানগরীর মতিহার থানার কাজলা অক্ট্রয় মোড়, (বিলপাড়া), এলাকার মোঃ মাসাদুজ্জামান মাসাদের স্ত্রী। তারই দ্বিতীয় স্বামী মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ অরফে আজাদ (৪৮), তিনি রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রীমা থানার ভদ্রা (মেঘ রোদ্র বাড়ী নং- ১৩৩, সড়ক নং-৫, পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা), তার পিতার নাম মোঃ মেসবাহ উদ্দিন, তিনি বোয়ালিয়া থানার বালিয়া পুকুর এলাকার বাসিন্দা। তবে শ্যামলীর প্রথম স্বামী মোঃ মাসাদুজ্জামান মাসাদ, তিনি (রাজশাহীর চারঘাট থানাধীন নন্দনগাছী ডিগ্রি কলেজের বাংলার শিক্ষক)।

                                                 ভুক্তভোগী কৌশিক , অন্তর আলী ও রেজাউল করিম।

ভুক্তভোগীদের ও একধিক মামলার বরাত দিয়ে জানা গেছে, মোঃ সাইফুদ্দিন আহমেদ অরফে আজাদ নিজেকে কখনো পুলিশ পরিদর্শক, ওসি, এসপি, আবার কখনো সরকারী বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কাছে। তিনি প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যামলীকে।  ভুক্তভোগীদের সরকারী মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজে আয়া ওথবা পিয়ন পদে চাকরি, এমএলএসএস, পুলিশ কন্সটেবল, আর্মির সিপাই, প্রধানমমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি ইত্যাদি প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় কোটি  টাকা প্রতারতার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৌশিক আহম্মেদ (২৮) চারঘাট থানার বাবা-মা হারা এতিম মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি  বলেন, আমার বাবা নেই। নানীর বাড়িতে থাকি। খাওয়া পরা দেখভাল যাবতীয় বৃদ্ধা নানী করে থাকেন। পড়াশোনা শেষ করেছি। শারদা থানা পাড়া এলাকার রাসেদুল ইসলাম মানিক জানায়, প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা আমার হাতে আছে। টাকা দিলেই সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা যাবে। পরে সে রাজশাহী মহানগরীর বালিয়া পুকুর বড়বটতলা এলাকায় পারভীন ভিলা নামের একটি বিল্ডিং-এর নিচতলায় প্রতারক আজাদ ও শ্যামলীর কাছে নিয়ে আসে মানিক। তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে ২০১৭ সালে ৮লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করি। এর কিছুদিন পর প্রতারক দম্পত্তী আমাকে একটি আর্মির ভুয়া নিয়োগ লেটার দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পিয়ন হিসেবে যোগদানের জন্য ভুয়া নিয়োগ লেটার দেয়। উভয় স্থানেই গিয়ে জানতে পারি নিয়োগপত্র দু’টিই ভুয়া। এরপর দীঘদিন টাকার জন্য ঘুরেও টাকা পাইনি। শেষে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করি। এরপর বোয়ালিয়া মডেল থানার বালিয়া পুকুর এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দারস্থ হই। আমার কথা শুনে স্থানীয়রা গণধোলাই দিয়ে প্রতারক আজাদকে পুলিশে সোপর্দ করে। তিনি আরও বলেন, মামলা করার আগে টাকার চিন্তায় আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য মাত্র ৫০হাজার টাকা ফেরত চাই প্রতারক আদাজ ও শ্যামলীর কাছে। কিন্তু তারা একটি টাকাও দেয়নি আমাকে। শেষ পর্যন্ত আমার মা মারা যান। আমি ছিলাম এতিম পরে চাররির জন্য মা’কেও হারিয়েছি।

ভুক্তভোগী (অবঃপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য) মোঃ রেজাউল করিম (৫৩), তিনি চারঘাট থানার শারদা আশকোরপুর গ্রামের মৃত আমজাদ হোসের ছেলে। তিনি বলেন, আজাদ ও শ্যামলী এই প্রতারক দম্পত্তী তাকে সরকারী (এমএলএসএস) পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৮ সালে ৮লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আজ আবদি চাকরিতো দুরের কথা, টাকাও ফেরত দেয়নি। আদালতে মামলা চলছে।

ভুক্তভোগী আন্তর আলী (২৪), তিনি চারঘাট থানা পাড়া এলাকার মোঃ আনোয়ার ইসলামের ছেলে। তিনি বলেন, পুলিশ কন্সটেবল পদে চাকরির জন্য শারদা থানা পাড়া এলাকার রাসেদুল ইসলাম মানিকের সাথে রাজশাহী আজাদের ভাড়া করা অফিসে গিয়ে ৫লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করি। তবে আজ আবদি চাকরি এবং টাকা কোনটাই পাইনি। আদালতে মামলা করেছি।

ভুক্তভোগী মোসাঃ ফারহানা ফ্লোরা অরফে টুম্পা (৩০), তিনি গোদাগাড়ী প্রেমতলী হরিণ বিশকা গ্রামের মোঃ খাইরুল হাসান রিংকুর স্ত্রী।,  ২০২২ সালে সরকারী বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে শ্যামলী ও আজাদ প্রতারক দম্পত্তী আয়া ওথবা পিয়ন পদে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০লাখ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিন তাদের কাছে ঘুরে চাকরি টাকা কোনটাই ফেরত না পেয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় এই প্রতারক দম্পত্তীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলা নং-৩০, তাং- ২৭ জুলাই ২০২৩।

একই এলাকার ভুক্তভোগী মোঃ খাইরুল হাসান রিংকু (৩৮), তিনি মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি বলেন, ২০২২ সালে গরুর খামারে শেয়ারের প্রলোভন দেখিয়ে খামারের যাবতীয় কাগজপত্র ও ট্রেড লাইসেন্স এবং ৩০০ টাকা মূল্যের চেক ও স্ট্যাম্প দিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে শ্যামলী ও আজাদ প্রতারক দম্পত্তী। আমি সরল বিশ্বাসে রাজশাহী নগরীর বালিয়া পুকুর এলাকায় তার ভাড়া করা অফিসে গিয়ে ১৫ লাখ দিয়ে আসি তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত না পেয়ে আদালতে মামলা দিতে হয়েছে। মামলা চলছে।

ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান (৩৫), তিনি রাজশাহীর পবা থানার দারুসা শাইর পুকুর এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে। তিনি বলেন, আমি গরিব মানুষ। ছোট মুদির দোকান রয়েছে আমার। তবে দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই বালিয়া পুকুর অফিসে গিয়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা আজাদকে দেই। তবে স্ট্যাম্পে ধার হিসেবে লেখা পড়া করা হয়। কিন্তু চাকরি তো দূরের কথা আমার দেয়া টাকা ফেরত দেয়নি প্রতারক আজাদ। তাই আদালতে মামলা করেছি।

ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম (৭৫)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বালিয়া পুকুর বড়বটতলা এলাকার পারভীন বাড়ির মালিক। তিনি বলেন, সরকারী বড় কর্মকর্তা পরিচয়ে আজাদ ও শ্যামলী স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমার বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে অফিস করেছিলো এবং বসবাস করতো। তারা অনেক মানুষের কাছে চাকরি ব্যবসা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা প্রতারণা করেছে। অনেক সময় ভুক্তভোগীরা এখানে আসতো, টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করতো অনেকে । শেষ পর্যন্ত আমি তাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলি। তবে তারা আমার বাড়িতে অবস্থান করা কালীন আমার কাছে খামারের ব্যবসার নামে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ নেয় এবং বাড়ি ভাড়ার বকেয় টাকা, সব মিলে ৪ লাখ ৭০ হাজার না দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ৩০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে টাকা লেখা পড়া করা আছে। আমি মামলা করিনি। তিনি আরও বলেন, এই টাকা আমার ছেলের বিয়েতে খরচ করবো বলে রেখে ছিলাম। আমি বুড়ো মানুষ কি করি বলতো বাবা?

তবে সকল ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতারক আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে বা থানায় যে সকল ভুক্তভোগীরা মামলা করেছে। প্রতারক আজাদ তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তার মামলার মূল কথা হলো; আমাকে জোর করে চেক স্ট্যাম্পে টাকা লিখে নিয়েছে। কতবড় টাউট এই প্রতারক।

তবে সকল ভুক্তভোগীদের প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি। এই প্রতারক দম্পত্তীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply