শিরোনাম :
রাজশাহীর পবায় ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন

রাজশাহীর পবায় ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবায় ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে ফসলী জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব চালাচ্ছেন প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। এতে কমছে আবাদি জমির সংখ্যা। পুকুরের মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে সড়কগুলো। পাশাপাশি মাটি বহনকারি ট্রলি চলাচল করায় সড়কগুলো খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ পথচারী। বিঘ্ন ঘটছে যানবাহন চলাচলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামে ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আয়নাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে চলেছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্বেও অন্যের জমি লীজ নিয়ে তিনি এ কর্মকান্ড- অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেও বিঘাকে বিঘা ফসলী জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, ফসলি জমি নষ্ট করে কোন উন্নয়ন বা পুকুর খনন করা যাবে না। তার পরেও জেলার পবা ও দুর্গাপুরে এক শ্রেনির অসাধু অর্থলোভী প্রভাবশালী লোকজন এ অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। এতে কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। অপরদিকে বেকার হয়ে পড়ছে কৃষকরা।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় মাদকের মত ভয়ংকর পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন গ্রামাঞ্চলের লোকজন। তবে এসব খনন বন্ধে প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাইফুল বারি ভুলু বলেন, ২ নং ওয়ার্ডের বজরাপুর গ্রামে অবৈধভাবে একটি পুকুর খনন হচ্ছে। এই পুকুর খননে খাল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় দুই হাজার একর জমির বোরো, আমন, ইরি ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে। তিনি আরো বলেন,জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পুকুর খনন বন্ধ বা খনন না করার জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে,আমরা এ চিঠির আলোকে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে মাইকিং করে অবগত করেছি। ইহা সত্বেও প্রভাবশালীরা পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে একাধিকবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন সক্রিয় হলে অবৈধভাবে ফসলী জমি নষ্ট করে কেউ পুকুর খনন করতে পারতেন না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলাব্যাপী যে পরিমাণ জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে; তাতে আর পুকুরের প্রয়োজন নেই। ভালভাবে মাছ চাষ করলে মাছের চাহিদা পূরণ হওয়া সম্ভব।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ উপজেলায় চাহিদার অতিরিক্ত পুকুর খনন করা হয়েছে। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কিন্তু এভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হলে একসময় খাদ্যে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

পবা উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, উপজেলার কয়েক জায়গায় অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পূর্বে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। তবে যে স্থানে পুকুর খননের কথা বলা হচ্ছে তার অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ সঠিক নয়।

এ ব্যাপারে মুঠোফনে জানতে অভিযুক্ত আয়নালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতিহার বার্তাকে বলেন, ভাই আমি অসুস্থ মানুষ এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারবো না, আপনার যা খুশি তা লেখেন। তবে সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাতকারে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি থানার ওসির অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছি।

এ বিষয়ে পবা থানার ওসি রেজাউল হাসান বলেন, একজন থানার ওসি পুকুর খননের অনুমতি কোনদিনও দিতে পারেনা। বল্লে সে ভুল বলেছে। এটি সমপুর্ণ ভুমি মন্ত্রনালয়ের আওতায়, বিষয়গুলি দেখবেন জেলা প্রশাসক-ইএনও তারাই।

মতিহার বার্তা ডট কম – ১৩ জুন- ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply