শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে ১০লাখ টাকার হেরোইন-সহ ৩জন মাদক কারবারী গ্রেফতার নগরীর তালাইমারীতে গাঁজা কারকারী মল্লিক গ্রেফতার রাজশাহীতে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু রিভার সিটি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রুয়েটকে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করতে হলে সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী চিপস্ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টা: আসামি নাইম গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আরএমপি’র নোটিশ জারি তানোরে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি ইকবাল গ্রেফতার কৃষিতে বির্পযয়ের আশঙ্কা তানোরে চোরাপথে আশা মানহীন সারে বাজার সয়লাব বাঘায় বাবুল হত্যা মামলায় চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ সিংড়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ২২ ব্যক্তির মাঝে চেক বিতরণ
রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার কোপ” লাইফ সাপোর্টে ছেলে, বাবা গুরুতর আহত

রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার কোপ” লাইফ সাপোর্টে ছেলে, বাবা গুরুতর আহত

রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার কোপ” লাইফ সাপোর্টে ছেলে, বাবা গুরুতর আহত
রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হাসুয়ার কোপ” লাইফ সাপোর্টে ছেলে, বাবা গুরুতর আহত

এসএম বিশাল: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে মারধর, হত্যা চেষ্টা, স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেবার মতো ঘটনা ঘটেছে গোদাগাড়ী গৌগ্রাম ইউনিয়নের তেরপাড়া গ্রামে।

হাসুয়ার কোপের আঘাতে গুরুত্বর আহত মামুনুর রশিদ মামুন (২৫) এখন রামেকের আইসিইউ (ইনটেনশিভ কেয়ার ইউনিট) তে জীবনের সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

অন্যদিকে, তার বাবা আব্দুর রহিম (৬০) মাথায় আঘাত নিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন বিগত কয়েকদিন ধরে। অভিযুক্ত হামলাকারি যুবলীগের পদধারি নেতা হওয়াতে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ ও আহত পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত (০১ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে তেরপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ফসলী জমিতে প্রতিবেশি মাসুমের কয়েকটি ছাগল কিছু ফসল (সরিষার ক্ষেত) নষ্ট করে দেয়।

উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে মোবারক হোসেন সুর্যর স্ত্রী ও অভিযুক্ত মাসুমের মা এর সাথে আব্দুর রহিমের ঝগড়া হয়। উক্ত বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে ঐদিন দুপুরে ধাতমা এলাকায় অবস্থান নেয় মাসুম ও তার সহোযোগিরা।

ঐ রাস্তা দিয়ে আব্দুর রহিম ও তার নাতনি মুনিরা ভ্যান যোগে যাবার পথে গাড়ির গতিপথ রোধ করে মাসুম ও তার সহোযোগিরা। ভ্যান থেকে আব্দুর রহিমকে নামিয়ে বাঁশ ও লাঠিশোটা দিয়ে এলোপাথারি ভাবে আব্দুর রহিমকে মারধর করে মাসুম।

নানাকে বাঁচানোর জন্য নাতনি মুনিরা আত্মচিৎকার ও চেচামেচি শুরু করলে মাসুম ও তার সহোযোগিরা শিশু মনিরাকেও লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করে। মাসুম ও তার সহোযোগিরা স্থান ত্যাগ করার পূর্বে আব্দুর রহিমের কাছে থাকা জমির ফসলের তিন লাখ টাকা ও নাতনি মুনিরার গলায় ও কানে থাকা স্বর্ণের অলঙ্কার জোড়পূর্বক কেড়ে নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে গেলে, মাসুম আরো রাগান্বিত হয়ে তার সহোযোগিদের সাথে নিয়ে ঐদিন বিকেলে বহিরাগত গুন্ডাবাহিনী সঙ্গে করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিশোটা নিয়ে আব্দুরে রহিমের বড় ছেলে সুমন আলীর বাড়ীতে আকস্মিক ভাবে হামলা চালায়। এবং সুমনকে বাড়ীতে না পেয়ে সুমনের স্ত্রী মর্জিনাকে লাঠিশোটা দিয়ে মারধর করে।

অভিযুক্ত মাসুম এতেও ক্ষান্ত না হয়ে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী সরিষার ক্ষেতে আব্দুর রহিমের ছোট ছেলে মামুন (২৫)কে একা পেয়ে লাঠিশোটা ও বাঁশ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি আঘাত করে এবং প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে তাদের হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করে।

মামুনকে সরিষার ক্ষেতে আহত অবস্থায় ছটপট করতে দেখে গ্রামের কিছু মানুষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়াতে গত ২ জানুয়ারী মামুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

রামেকের ৮ নং ওয়ার্ডের ৩০ নং বেডে মাসুম চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার শারিরীক অবস্থার আরো অবনতি হয়।  বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার সময় তাকে আইসিইউ’ তে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত মামুন জীবন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

মামুনের ফুপাতো বোন আয়শা আক্তার জুলি বলেন, অভিযুক্তদের  বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে জানান জুলি।

তিনি আরো বলেন, মাসুমের বোন জেসমিন রামেক হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত থাকার কারণে মামুনের চিকিৎসায় বাঁধাগ্রস্থ করছে বলেও অভিযোগ তাদের।

মামুনের বাবা ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, গত বুধবার সকালে নার্স জেসমিন আকস্মিকভাবে উক্ত ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে থাকা অসুস্থ মামুনের হাতের স্যালাইন ও ক্যানুলা খুলে দেন। বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য উক্ত ৮ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একাধিক নার্সকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, গত বুধবার সকালে আমরা ছিলাম না। ওয়ার্ড ইনচার্জের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন।

মামলা না নেবার বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন থানায় এসেছিল। তারা কখনো বলছেন বিষয়টি আমরা আপোষ মিমাংসা করে নেবো। তাই মামলা নেয়া হয়নি। তবে সন্ধ্যায় তাদেরকে থানায় আসতে বলেন মামলা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মতিহার বার্তা / ইএবি

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply