শিরোনাম :
সাধারণ মানুষ সমাবেশ প্রত্যাখান করেছে, রাসিক মেয়র লিটন রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু কাজ হল না বিষেও! আসামির মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভয়ঙ্কর পন্থা নিলেন জেল কর্তৃপক্ষ সঙ্গ পেতে মহিলাকে নিয়ে কলকাতার হোটেলে, প্রতিশ্রুতি মতো টাকা না দেওয়ায় ধৃত ৩ বাংলাদেশি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না স্পেনের কোচ, কেন? বদলের ব্রাজিলে নজিরের মুখে দাঁড়িয়ে আলভেস, পেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নামছে সেলেকাওরা বিশ্বকাপে নেমারের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে এ বার মুখ খুললেন তাঁর বাবা রাজশাহীতে আনোয়ার হোসেন উজ্জলের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষের মিছিল অনুষ্ঠিত শীত উপেক্ষা করে খোলা মাঠে রাত কাটালো বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে যেতে পথে পথে বাধা
প্রতিবন্ধী হয়েও সফল: রপ্তানি হচ্ছে তাদের তৈরী কার্পেট

প্রতিবন্ধী হয়েও সফল: রপ্তানি হচ্ছে তাদের তৈরী কার্পেট

মতিহার বার্তা ডেস্ক : মানুষের ইচ্ছা শক্তি থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই তার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এই কথাটি আবারো প্রমাণ হলো ময়নসিংহের প্রতিবন্ধী নারীদের মাধ্যমে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তারা আজ স্বাবলম্বী, শুধু তাই নয় অবদান রেখে চলেছেন দেশের অর্থনীতিতে। হস্তশিল্পের কাজ শিখে ভাগ্য বদলে গেছে ময়মনসিংহের শতাধিক প্রতিবন্ধী নারীর। তাদের তৈরি দৃষ্টিনন্দন পণ্য সামগ্রী স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে।

ময়মনসিংহ শহরে মোট ১২ জন প্রতিবন্ধী নারীকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করেছিলো কার্পেট হাউস। বর্তমানে এই কার্পেট হাউসে কাজ করছেন শতাধিক প্রতিবন্ধী। সরকারি সহায়তায় ওই নারীদের এ সুযোগ করে দিয়েছে ময়মনসিংহের প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার। কার্পেট তৈরির জন্য সুতা সাজানো, বুননযন্ত্রে সুতা লাগানো থেকে শুরু করে কার্পেট, শতরঞ্জি তৈরি সবই করছেন প্রতিবন্ধী নারীরা। বাজারে এই কার্পেটের দাম ৩ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিক্রির টাকা জমা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের তহবিলে, যেখান থেকে ব্যয় হচ্ছে প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়নে।

প্রতিবন্ধীদের বানানো কার্পেট আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে জাপান, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশে। প্রথমে তারা স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করতেন। ধীরে ধীরে তাদের কাজের পরিধি বেড়েছে। উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তা বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

সরকারের এনজিও ব্যুরো ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার নারীদের কল্যাণের জন্য তৈরি করা হয়েছে নারী ক্লাব। প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাবলম্বী করতে ২০০০ সালে এই মহিলা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই সময়ই এখানে কার্পেট ও হস্তশিল্পের কারখানা গড়ে তোলা হয়। অসহায় প্রতিবন্ধী নারীরা কাজ শিখে এখান থেকেই আয়-রোজগার করে থাকেন প্রতিবন্ধীরা। সপ্তাহে এক দিন এই নারীদের পরিবার নিয়ে সভা বসে। সেখানে নারী নির্যাতন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলে। যে নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারেন না, তাঁরা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ পান। এই নারীরা সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত কাজ ও পড়াশোনা করেন। সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সুন্দর দিনের গল্প বুনে চলেছে এই প্রতিবন্ধী নারীরা, যা অনেকের জন্য উৎসাহের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

মতিহার বার্তা ডট কম ০৯ এপ্রিল ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *