শিরোনাম :
গোদাগাড়ীতে ১০লাখ টাকার হেরোইন-সহ ৩জন মাদক কারবারী গ্রেফতার নগরীর তালাইমারীতে গাঁজা কারকারী মল্লিক গ্রেফতার রাজশাহীতে প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু রিভার সিটি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রুয়েটকে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তর করতে হলে সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরী চিপস্ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টা: আসামি নাইম গ্রেফতার এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে আরএমপি’র নোটিশ জারি তানোরে ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি ইকবাল গ্রেফতার কৃষিতে বির্পযয়ের আশঙ্কা তানোরে চোরাপথে আশা মানহীন সারে বাজার সয়লাব বাঘায় বাবুল হত্যা মামলায় চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ সিংড়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ২২ ব্যক্তির মাঝে চেক বিতরণ
অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা
অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় চলন্ত বাসে লক্ষ্মীপুরের এক যুবককে অচেতন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলে নিয়ে বন্দি রাখা হয়। আর সেখানে তাকে নির্যাতন ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন ভুক্তভোগী। শনাক্তকৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম অসিত পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

ভুক্তভোগীর নাম ওয়ালিউল্ল্যাহ (৩২)। তিনি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটা ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স করছেন। বর্তমানে একটি জুতার কম্পানিতে চাকরিরত রয়েছেন।

ওয়ালিউল্ল্যাহর ভাষ্য মতে, খিলগাঁও বাসাবো থেকে তিনি তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে যাবেন। বাসাবো থেকে সদরঘাটের উদ্দেশে তিনি একটি বাসে ওঠেন। তারপর তিনি কিছু বলতে পারেন না, অজ্ঞান হয়ে পড়েন। যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন যুবকের সঙ্গে আবিষ্কার করেন। তারা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের ‘এ’ ব্লকের ২১৪ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন। তারা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান। তিনি বলেন, টাকা দিতে না পারায় তারা আমাকে চাকু দেখায় এবং লোহার পাইপ দিয়ে মারধর এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তী সময়ে তার কাছে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা ওরা নিয়ে নেয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো পাঁচ হাজার টাকা তাকে দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে নিয়ে আসে।

ওয়ালিউল্ল্যাহ বলেন, তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে হলগেটে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ভুক্তভোগীর কথা শুনে সাংবাদিকরা তাকে শহীদ সালাম-বরকত হলে নিয়ে যান এবং হল প্রশাসন ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে অবগত করেন। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় সাংবাদিক ও হল প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানান তিনি। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি ও তার টাকা ফেরতের দাবি জানান। পরে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহরে হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে ২১৪ নম্বর কক্ষে প্রাথমিক তল্লাশি শেষে একটি লোহার পাইপ, চাকু, বিভিন্ন ইনজেকশন ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া বিকাশে টাকা আদায়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক অসিত পালের যোগসূত্রের সত্যতা মিলেছে বলে জানায় হল প্রশাসন। অসিত পাল ২১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অসিত পালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক ও শহীদ সালাম-বরকত হল প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু।

অধ্যাপক ড. সুকল্যাণ কুমার কুণ্ডু বলেন, ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলে তাকে যে রুমে টর্চার করা হয় সেই রুম শনাক্ত করতে পেরেছি। সেই রুমে মাদক সেবনের যন্ত্রপাতিও পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যানুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীকেও অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করতে পেরেছি। এই পুরো ব্যাপার নিয়ে আমরা তদন্ত করব। আজ এর বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। ভুক্তভোগী চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ছাড়াও থানায় অভিযোগ করতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply