শপথ নিয়ে তারেকের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, হতাশাই সম্বল বিএনপি নেতাদের

শপথ নিয়ে তারেকের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, হতাশাই সম্বল বিএনপি নেতাদের

মতিহার বার্তা ডেস্ক : নির্বাচন বর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির আরো ৪ জন সংসদ সদস্য যোগদান করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিএনপির নির্বাচিত চারজন শপথ নেয়ার পর গুলশানে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পাশে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকে দেখা যায়নি। গুঞ্জন উঠেছে, তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ ও ক্ষোভের অংশ থেকেই বৈঠক বর্জন করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। ছলচাতুরী এবং সাময়িক লাভের আশায় বিএনপিকে জনগণের সামনে প্রতারক দল হিসেবে উপস্থাপন করায় মনের দুঃখেই সংবাদ সম্মেলনে যাননি দলটির ক্ষুব্ধ নেতারা।

এই বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে দলটির অন্যতম প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, শপথ প্রসঙ্গে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চরমভাবে বিব্রত হয়েছি। কোন লাভ বা প্রলোভনে পড়ে তারেক রহমান এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন সেটি চিন্তা করেও কোন কূল-কিনারা করতে পারছি না। দেশ-বিদেশে সকলেই জানে বেগম জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি শপথ নিবে না, সেখানে কেন নেত্রীকে জেলে রেখে শপথ নেয়া হলো-সেটি আমার কাছে বোধগম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, হঠকারী সিদ্ধান্তে এখন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। মানুষের কটু কথায়ে জনসম্মুখে চলাফেরা করাটা চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়লো আমাদের মতো সিনিয়র নেতাদের। শপথ নিয়ে যে রাজনীতি চলছে, নিঃসন্দেহে তা বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর মাত্র।

শপথে বিএনপির জনপ্রিয়তা এবং জনসমর্থন কমবে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, যে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এতদিন জল ঘোলা করা হলো, সাময়িক লাভের আশায় সেই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে নৈতিক সমর্থন দেয়া হলো শপথ নিয়ে। তারেক রহমান কেন এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন সেটি আমি বুঝতে পারছি না। যারা শপথ নিয়েছেন তারা নিঃসন্দেহে দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিদেশি বন্ধুদের সাথে প্রতারণা করেছেন। এই শপথের ঘটনা বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে যুগে যুগে ঘৃণিত হবে।

নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতারা কীভাবে দেখছে? জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, নিঃসন্দেহে নির্বাচন বর্জন শেষে শপথ গ্রহণে নাটকে তৃণমূল বিএনপি চরম মানসিক আঘাত পেয়েছে। বিএনপিকে তো অনেকেই এখন জাতীয় পার্টির আপডেট ভার্সনের রাজনৈতিক দল হিসেবে ঠাট্টা-মশকরা করছে। সিনিয়র নেতৃবৃন্দ শুধু নিজের লাভটাই দেখলেন, তৃণমূলের কথা কেউ কখনই চিন্তা করেনি কোন দিনই।সূত্র: বাংলা নিউজ ব্যাংক

মতিহার বার্তা ডট কম – ০১ মে, ২০১৯

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply